স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, রাতেই দমকল (Fire Brigade) এবং থানায় খবর দেওয়া হলেও ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেরি করে দমকলের ইঞ্জিন। ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রায় ঘণ্টা দেড়েক পর প্রথম দমকলের গাড়ি ঘটনাস্থলে আসে। সেই সময় জলের সংকট দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত গঙ্গা (Ganga) থেকে জল এনে আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়। ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ, দমকলের প্রতিক্রিয়া যদি আরও দ্রুত হত, তাহলে এত বড় বিপর্যয় হয়তো ঠেকানো যেত।
অরফ্যানগঞ্জ মার্কেটে প্রায় ১,৩০০টিরও বেশি দোকান ছিল। ব্যবসায়ীদের দাবি, এর মধ্যে অন্তত ৪০০টি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। অনেকের দোকানে ছিল নগদ টাকা, জরুরি নথিপত্র, মূল্যবান সামগ্রী—সবই পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এক ব্যবসায়ী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “সারা জীবনের সঞ্চয় এক রাতেই শেষ। এখন কীভাবে বাঁচব বুঝতে পারছি না।”
আরও পড়ুনঃ ইরানের উপর হামলা করলে পাকিস্তান পারমাণবিক অস্ত্র ছুঁড়বে ইজরায়েলে! চাঞ্চল্যকর দাবি ইরানি নিরাপত্তা পরিষদের
এদিকে দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Bose) দেরির অভিযোগ মানতে নারাজ। তিনি জানান, “একটা দমকলের গাড়ি এলেও কিছুটা সময় লাগে। ওয়াটগঞ্জ (Watgunge) এবং গার্ডেনরিচ (Garden Reach) থেকে দমকলের ইঞ্জিন দ্রুত পাঠানো হয়েছিল। আমাদের দমকল কর্মীরা জীবন বিপন্ন করে কাজ করেছেন।”
মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, “এখানে অনেক দোকান নিয়ম বহির্ভূত ভাবে তৈরি। আগুন নেভাতে সমস্যা হচ্ছে। তবে কাউকে এখনই দোষারোপ করা ঠিক নয়। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।”
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, দমকলের প্রায় ২০টি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে। তবে এখনও বাজারের একাধিক জায়গায় রয়েছে ‘পকেট ফায়ার’। দমকল সূত্রে খবর, আগুন পুরোপুরি নিভে গেলে ‘কুলিং অফ’ প্রক্রিয়া শুরু হবে।
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে অনুমান, তেলের গুদাম এবং দাহ্য পদার্থের উপস্থিতিই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ।
সকাল থেকেই পুড়ে যাওয়া মার্কেটে কান্নার রোল, সব হারানো ব্যবসায়ীদের ভিড়। কারও দোকানের ছাই খুঁজছেন, কেউ আবার পুড়ে যাওয়া টাকার অবশিষ্টাংশ হাতে নিয়ে নির্বাক।
এখন অপেক্ষা, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার তদন্ত কী দেখায় এবং সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের কী ধরনের সাহায্য বা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।