দুর্ঘটনা
২৭ বছরের ব্যবধানে দু’টি দুর্ঘটনা, দুই বেঁচে যাওয়া, আশ্চর্য মিল! রহস্যের কেন্দ্রে ‘মিরাকল সিট’
ডিজিটাল ডেস্কঃ বিশ্বে কতই না অদ্ভুত মিল ঘটে, কখনও কখনও যা অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি। এমনই এক ঘটনা ফের সামনে এল বিমান দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে। দু’টি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা, সময়ের ব্যবধান ২৭ বছর। অথচ, আশ্চর্যভাবে দুই দুর্ঘটনার একমাত্র বেঁচে ফেরা ব্যক্তির আসন ছিল এক— ১১এ (Seat 11A)।
সাম্প্রতিক আমদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়া (Air India AI171)-র বিমান দুর্ঘটনায় একমাত্র বেঁচে যান বিশ্বাস কুমার রমেশ (Vishwas Kumar Ramesh)। তিনি সেই সময় বসেছিলেন ১১এ-তে। আর এই ঘটনাকে ঘিরেই সামনে আসে আরও এক অবিশ্বাস্য তথ্য।
ঠিক একই আসনে বসেই ১৯৯৮ সালে এক ভয়ঙ্কর বিমান দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা রুয়াংসাক লয়চুসাক (Ruangsak Loychusak)। থাই এয়ারওয়েজের (Thai Airways TG261) সেই দুর্ঘটনায় ১৪৬ জন যাত্রীর মধ্যে প্রাণ হারান ১০১ জন। কিন্তু অলৌকিকভাবে বেঁচে যান রুয়াংসাক— এবং তাঁর আসনও ছিল ১১এ।
এই অবিশ্বাস্য মিল সামনে আসতেই বিশ্বজুড়ে বিস্ময়ের ঝড় উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ‘Miracle Seat 11A Survivor’ বা ‘১১এ-এর অলৌকিকতা’ নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। কেউ বলছেন, “১১এ-ই পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান আসন।” আবার অনেকেই এখন বিমানে ১১এ সিট বুক করার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন।
আরও পড়ুনঃ নিজেদের নেতার বিরুদ্ধেই পোস্টার! চণ্ডীচরণ-দীপাঞ্জনকে সরাতে দাবি বিজেপি কর্মীদের
এ বিষয়ে ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রুয়াংসাক নিজেও। তিনি লেখেন, “১৯৯৮ সালের সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি আজও আমার মনে গেঁথে আছে। এবার যখন শুনলাম, ভারতের দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়ার সেই আশ্চর্য ঘটনা, আরও অবাক হলাম। তাঁরও আসন ছিল আমারই মতো— ১১এ!”
রুয়াংসাক জানিয়েছেন, নিজের বোর্ডিং পাসটি তাঁর কাছে নেই। তবে সে সময়ের সংবাদমাধ্যমেই উল্লেখ ছিল, তাঁর আসন নম্বর ১১এ।
বিশ্বাস কুমার রমেশ জানিয়েছেন, “বিস্ফোরণের তীব্র ধাক্কায় আমি ছিটকে পড়েছিলাম। কিছু সময়ের জন্য মনে হয়েছিল, আমিও বুঝি আর বাঁচব না। কিন্তু পরে যখন নিজেকে বেঁচে থাকতে দেখলাম, তখনই বুঝলাম, নতুন করে জীবন পেয়েছি।”
বৃহস্পতিবারের ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার (Boeing 787-8 Dreamliner) মাটিতে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভারসাম্য হারিয়ে আমদাবাদের একটি মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলের সঙ্গে ধাক্কা খায় এবং মুহূর্তে আগুন ধরে যায়। বিমানটিতে মোট ২৩০ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রু সদস্য ছিলেন।
থাইল্যান্ডের বিমান দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ দশ বছর রুয়াংসাক বিমানে উঠতেই পারেননি। একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কীভাবে জীবনের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে গিয়েছিল সেই দিন থেকে। এবার ভারতের দুর্ঘটনার খবরে মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন তিনি।
এই অলৌকিক মিল এখন আন্তর্জাতিক স্তরেই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সত্যিই কি ১১এ-তে কোনও রহস্য আছে? প্রশ্ন উঠছে সর্বত্র।
