মালদার রুদ্ধশ্বাস হত্যাকাণ্ড: কাকিমার ঘরের মেঝে খুঁড়তেই মিলল ভাইপোর টুকরো দেহ
Connect with us

খুন

মালদার রুদ্ধশ্বাস হত্যাকাণ্ড: কাকিমার ঘরের মেঝে খুঁড়তেই মিলল ভাইপোর টুকরো দেহ

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্ক: বলিউড থ্রিলারকেও হার মানায় এমন এক ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডের জেরে চাঞ্চল্য ছড়াল মালদায়। ১৫ দিন ধরে নিখোঁজ এক ঠিকাদারের দেহ উদ্ধার হল তাঁর কাকিমার (Aunt) বাড়ির নিচ থেকে। অভিযোগ, খুন করে দেহ কুপিয়ে টুকরো করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে ফেলা হয়েছিল, তার উপর আবার সিমেন্ট-বালির প্লাস্টার করে দেওয়া হয়। এই ঘটনার জেরে রবিবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে মৃতের কাকিমা মৌমিতা হাসান (Moumita Hasan)-কে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঁচলের পুখুরিয়া থানার কোকলামারি গ্রামের বাসিন্দা সাদ্দাম নাদাপ (Saddam Nadap), বয়স ৩৬, পেশায় ছিলেন ঠিকাদার। ইংরেজবাজার শহরের বাপুজি কলোনির একটি বাড়িতে তাঁর কাকিমা মৌমিতার অফিসঘর ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি। নির্মাণকাজ ও জমি কেনাবেচার মতো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সাদ্দাম। গত ১৮ মে রাতের দিকে অফিস থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। ওই দিনই তাঁর পরিবারের তরফে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। পরে ২৩ মে, সন্দেহজনকভাবে কাকিমা মৌমিতার নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করেন সাদ্দামের স্ত্রী নাসরিন খাতুন (Nasrin Khatun)।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নিখোঁজের দিন সাদ্দাম প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা নিয়ে ফিরছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে কাকিমা মৌমিতাকে গ্রেফতার করে জেরা করা হয়। সেখানেই তিনি খুনের কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে আরও ভয়ঙ্কর তথ্য। পুলিশ জানিয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন এলাকায় মৌমিতার পিত্রালয়ে একটি বাড়ি তৈরি হচ্ছিল। সেখানে ১৮ মে রাতে কোনও লোভ দেখিয়ে সাদ্দামকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সুপারি কিলার দিয়ে তাঁকে খুন করে দেহ টুকরো করে পুঁতে দেওয়া হয় নির্মীয়মাণ ঘরের মেঝেতে।

আরও পড়ুনঃ দাবার বোর্ডে এক ভুল চালেই ভেঙে পড়ল দাপট, গুকেশের কাছে হারে ক্ষুব্ধ কার্লসেন

Advertisement
ads

সোমবার ওই নির্মাণস্থলে খোঁড়াখুঁড়ি চালিয়ে দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। সন্দেহ, এই হত্যাকাণ্ডে তিন থেকে চারজন দুষ্কৃতী যুক্ত ছিল। খুনের পেছনে পরকীয়াজনিত দ্বন্দ্ব এবং আর্থিক লেনদেনকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছে তদন্তকারী দল। পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, সাদ্দাম ও তাঁর কাকিমার মধ্যে পাঁচ বছর ধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ক থেকেই পরে সৃষ্টি হয় টানাপোড়েন ও ব্ল্যাকমেলের পরিস্থিতি। আদালতে তোলা হলে মৌমিতা জানান, সাদ্দাম তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেল করছিলেন এবং তাঁর স্বামী ও নাবালক সন্তানকে প্রাণে মারার হুমকি দিচ্ছিলেন। সেই ভয় থেকেই পথের কাঁটা সরাতে খুনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা মালদা জেলা জুড়ে। তদন্তে নেমেছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ এবং তল্লাশি চলছে অভিযুক্ত অন্যান্য দুষ্কৃতীদের খোঁজে।