সোশ্যাল মিডিয়া
সংঘর্ষবিরতির পরেই পাক হামলা, বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ: ‘ওরা কখনও কথা রাখে না’
ডিজিটাল ডেস্ক: যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের আগুনে ঘি ঢালে পাকিস্তান। সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে শুরু করে রাজস্থান, গুজরাট, জম্মু-কাশ্মীর— একাধিক জায়গায় ড্রোন হানার চেষ্টা চলে, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর চলে গুলিবর্ষণও। যদিও সময় নষ্ট না করে জবাব দেয় ভারতীয় সেনা। একের পর এক ড্রোন মাঝ আকাশেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই প্রেক্ষিতে রবিবার সকালে কড়া প্রতিক্রিয়া দেন বিজেপির (BJP) বর্ষীয়ান নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।
ইকো পার্কে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “ওদের ক্ষমতা কী আমরা জানি, কিন্তু ওদের স্বভাবটাই পাল্টায় না। পাকিস্তান ইতিহাসে কোনও চুক্তির মর্যাদা দেয়নি। আমেরিকার সঙ্গেও দেয়নি। ভারত জানে, কখন কীভাবে উপযুক্ত জবাব দিতে হয়।”
বিজেপি নেতার মতে, সংঘর্ষবিরতি চুক্তি হয়েছে বলে ভারত এখন হাত গুটিয়ে বসে থাকবে— এমন নয়। সীমান্তে সেনা তৎপর রয়েছে এবং প্রয়োজন পড়লেই উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতির পর কাশ্মীর নিয়ে আলোচনায় আগ্রহ ট্রাম্পের
এদিকে পাকিস্তানকে সরাসরি সমর্থন করেছে চিন (China)। চিনা বিদেশমন্ত্রী পাক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বলেন, ‘পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার রয়েছে।’ বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
চিন-পাক আঁতাত নিয়ে মুখ খোলেন দিলীপ ঘোষও। তাঁর কথায়, “চিন শুরু থেকেই পাকিস্তানের পাশে থেকেছে। এমনও বলা হচ্ছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে অর্থনৈতিক লাভের জন্য চিনই পাকিস্তানকে মদত দিয়েছে। চিনা কারখানা ভারতে স্থানান্তর হওয়া তাদের পছন্দ হচ্ছে না। আমেরিকার ক্ষেত্রেও এই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সময় বলবে কারা ঠিক আর কারা ভুল।”
এই প্রেক্ষিতেই ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে বালুচিস্তান (Balochistan)। দিলীপ ঘোষ বলেন, “বালুচিস্তান প্রথম থেকেই স্বাধীনতা চায়। পাকিস্তান তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সেখানেও দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরোধ চলছে। শুধু বালুচিস্তান নয়, সিন্ধু প্রদেশেও অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ রয়েছে। পাকিস্তানের পরিণতি কী হবে, আগামী কয়েক বছরে তা পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
অন্যদিকে, পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন AIMIM নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি (Asaduddin Owaisi)। তিনি সেনা ও সরকারের পাশে থাকার বার্তা দেন।
এবিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় দিলীপ ঘোষ জানান, “ওয়াইসি একা নন, সব বিরোধী নেতাই সরকারের পাশে রয়েছে। সর্বদলীয় বৈঠকে তা স্পষ্ট হয়েছে। ১৪০ কোটি ভারতবাসী এই মুহূর্তে দেশের সেনা ও সরকারের পাশে আছেন। ‘অপারেশন সিন্দুর’ এখনও শেষ হয়নি। প্রয়োজনে আরও জোরালোভাবে চলবে।”
