সোশ্যাল মিডিয়া
কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদীদের রক্তঝরা খেলা, হতাহত বহু পর্যটক
ডিজিটাল দেস্কঃ কাশ্মীরের শান্তিপূর্ণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেন আচমকা ভেঙে পড়ল সন্ত্রাসের এক ভয়ানক ছায়ায়। দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় মঙ্গলবার সকালে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারালেন অন্তত ২০ জন পর্যটক। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে দাবি, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে—অনুমান অন্তত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এই ঘটনায়। আহতের সংখ্যা ৩০-এর বেশি, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনাস্থল ছিল পর্যটকদের প্রিয় বৈসরন উপত্যকা, যেখানে একটি রিসর্টের কাছেই সকালের শান্ত মুহূর্তে আচমকা আক্রমণ চালায় ৩ জন সশস্ত্র জঙ্গি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘোড়ায় চড়া, ছবি তোলা বা খাবার খাওয়ার সময় আচমকা হামলা শুরু হয়। পর্যটকদের মধ্যে ধর্মীয় পরিচয় যাচাই করে গুলি চালানো হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। একজন মহিলার কথায়, “আমরা ভাবতেই পারিনি এমন কিছু ঘটতে পারে। আমার স্বামীকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি হিন্দু কি না, তারপর গুলি করা হয়।”
হামলার খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ সেনাবাহিনী ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। গোটা এলাকা ঘিরে তল্লাশি অভিযান চলছে। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গিগোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার না করলেও গোয়েন্দা দপ্তরের অনুমান, হামলার পেছনে লশকর-ই-তৈবা বা তাদের কোনো শাখা সংগঠন থাকতে পারে। এ ধরনের হামলার ধরন তাদের পুরনো কৌশলের সঙ্গে মিল রাখে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সৌদি আরব সফরকালীন এই হামলার খবর পেয়েই কড়া বার্তা দিয়েছেন। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন—
“জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে এই জঙ্গিহানার তীব্র নিন্দা করছি। যাঁরা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা। আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন—এই কামনা করি। এই নৃশংস হামলার পিছনে যারা রয়েছে, তাদের কোনও রেহাই দেওয়া হবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সংকল্প আরও অটুট হবে।”
I strongly condemn the terror attack in Pahalgam, Jammu and Kashmir. Condolences to those who have lost their loved ones. I pray that the injured recover at the earliest. All possible assistance is being provided to those affected.
Those behind this heinous act will be brought…
— Narendra Modi (@narendramodi) April 22, 2025
তাঁর নির্দেশেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তড়িঘড়ি কাশ্মীরে পৌঁছেছেন। পরিস্থিতির ওপর সরাসরি নজর রাখছেন তিনি। ঘটনাটির তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)-এর হাতে।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা—সকলেই এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। মমতা লিখেছেন, “এই ধরনের বর্বরতা কোনও সভ্য সমাজে বরদাস্ত করা যায় না। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।”
অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “কাশ্মীরে সব স্বাভাবিক, এই দাবি এখন হাস্যকর। সরকারকে দায় নিতে হবে। নিরপরাধ নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা দিতে হবে।”
এই হামলা শুধু পর্যটন শিল্প নয়, কাশ্মীরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল। সামনের দিনে এ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কী পদক্ষেপ হয়, এখন তাকিয়ে গোটা দেশ।
