রাজ্যের খবর
নিউ টাউনের ঘরোয়া অনুষ্ঠানে বিয়ে, জীবনের নতুন অধ্যায়ে দিলীপ ঘোষ
ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্য রাজনীতির এক বহুচর্চিত মুখ, প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি ও প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ অবশেষে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছেন। শুক্রবার, নিউ টাউনের নিজের বাসভবনেই ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে রিঙ্কু মজুমদারকে বরণ করে নেবেন দিলীপ। রিঙ্কু এক সময় বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সেখান থেকেই তাঁদের পরিচয়।
সূত্রের খবর, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরে মানসিক দিক থেকে কিছুটা ভেঙে পড়েছিলেন দিলীপ। সেই সময় পাশে দাঁড়িয়েছিলেন রিঙ্কুই। তিনিই প্রথম দিলীপকে সংসার গড়ার প্রস্তাব দেন। যদিও শুরুতে দিলীপ রাজি ছিলেন না, পরে মায়ের ইচ্ছা ও নিজের সিদ্ধান্তে পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে বিবাহে সম্মত হন তিনি।
জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল ইডেনে আইপিএল ম্যাচ দেখতে গিয়ে দিলীপ ও রিঙ্কুর পরিবার একসঙ্গে সময় কাটান। সেদিনই ‘পাকা কথা’ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন তাঁদের ঘনিষ্ঠেরা।
আরও পড়ুনঃ মন্দির চত্বরে প্রবীণ পুরুষের অশ্লীল ছবি তোলার চেষ্টা, তরুণীর প্রতিবাদে ছড়ালো ক্ষোভ
এই বিয়েকে কেন্দ্র করে দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, সঙ্ঘ পরিবারের একাংশ দিলীপের এই সিদ্ধান্তে খুশি নন। দু’জন সদস্য তাঁর বাড়িতে গিয়েও বিয়েটি না করার অনুরোধ করেছেন। তবে দিলীপ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সিদ্ধান্ত বদল হবে না।
শুক্রবারের অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবরা উপস্থিত থাকবেন। আড়ম্বর এড়িয়ে ঘরোয়া পরিবেশেই চার হাত এক হবে। রিঙ্কু মজুমদার বিবাহবিচ্ছিন্না এবং এক পুত্রের জননী। তাঁর পুত্র বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত।
দিলীপের মা তাঁর কাছে থাকেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরেই চাইছিলেন তাঁর ছেলে সংসারী হোন। ঘনিষ্ঠমহল বলছে, বয়সের এই প্রান্তে এসে দিলীপ নিজেও বুঝেছেন, জীবনের এই অধ্যায়টিকে পূর্ণতা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
রাজনীতির ময়দানেও দিলীপ ঘোষের ভূমিকা এখনও প্রাসঙ্গিক। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করা হতে পারে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের। তবে ঘর বাঁধার পর নতুন এই পরিচয়ের সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্য রাখবেন দিলীপ, তা দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।
এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে চর্চা শুরু হয়েছে। কেউ একে ‘সাহসী সিদ্ধান্ত’ বলছেন, কেউবা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। তবে যাই হোক না কেন, ‘চিরকুমার’ জীবনের অবসান ঘটিয়ে এবার সংসারজীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে চলেছেন দিলীপ ঘোষ— এটাই এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আড্ডার কেন্দ্রবিন্দু।
