মোদিজি, যদি দেশকে বাঁচাতে চান, তাহলে ওঁকে নিয়ন্ত্রণ করুন! কার সম্বন্ধে এমন বললেন মুখ্যমন্ত্রী
Connect with us

সোশ্যাল মিডিয়া

মোদিজি, যদি দেশকে বাঁচাতে চান, তাহলে ওঁকে নিয়ন্ত্রণ করুন! কার সম্বন্ধে এমন বললেন মুখ্যমন্ত্রী

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ ইমাম ও মোয়াজ্জেমদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপিকে একাধিক ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কটাক্ষ করেন তিনি। ওয়াকফ সংশোধনী, মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক অশান্তি, শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগের সমস্যা– প্রতিটি বিষয়েই কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।

বক্তব্যে মমতা বলেন, “আপনারা ১০ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন। সেই সময়কালে সাধারণ মানুষ কী পেয়েছেন? কতজনকে চাকরি দিয়েছেন? আজ পেট্রোল-ডিজেলের দাম আকাশছোঁয়া, ওষুধের দাম বাড়ছে, আর আপনারা ফেক ভিডিও ছড়িয়ে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছেন।” তিনি আরও বলেন, ‘‘বাংলার শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে রক্তাক্ত করার ষড়যন্ত্র চলছে। কিছু গদি মিডিয়া ও বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া সেনা মিলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমি অনুরোধ করছি, বিজেপির উসকানিতে পা দেবেন না। কেউ যদি অশান্তি ছড়াতে আসে, তাকে প্রতিরোধ করুন।’’

আরও পড়ুনঃ “সৌদি গেলে কোলাকুলি ঠিক, বাংলায় এলেই সমস্যা! প্রধানমন্ত্রীর দ্বিচারিতা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী”

বাংলাদেশ প্রসঙ্গ ও সীমান্ত সুরক্ষা:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের একটি রিপোর্টে মুর্শিদাবাদের অশান্তির পেছনে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ’–এর অভিযোগ ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যদি সত্যিই বাংলাদেশ থেকে কেউ ঢুকে পড়ে থাকে, তবে তার দায় তো বিএসএফের। সীমান্ত তো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আপনারা বলছেন বাংলাদেশি ঢুকেছে, তাহলে কাদের ব্যর্থতা?”

Advertisement
ads ads

ধর্মীয় সমন্বয়ের বার্তা:
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে ছিল ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা। তিনি বলেন, “হিন্দুরা মুসলিমদের উৎসবে যান, মুসলিমরা হিন্দুদের উৎসবে আসেন—এটাই বাংলার সংস্কৃতি। বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করছে। সংবিধানের ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রত্যেকের নিজের ধর্ম পালন ও সম্পত্তির অধিকার সংরক্ষিত রয়েছে। বিজেপি সেই অধিকার কেড়ে নিতে চায়।”

অমিত শাহকে নিশানা:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দেগে মমতা বলেন, “দেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন উনি। কালিদাসের মতো নিজেই নিজের ডাল কাটছেন। মোদিজি, আপনি যদি দেশকে বাঁচাতে চান, তাহলে ওঁকে নিয়ন্ত্রণ করুন।”


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা ছিল স্পষ্ট — “বাংলার মাটি শান্তির। হিন্দু-মুসলমান বিভেদ ছড়িয়ে এই মাটি রক্তাক্ত করতে দেব না। যতদিন আমি রয়েছি, ততদিন তা হতে দেব না। সকলের কাছে অনুরোধ, শান্তি বজায় রাখুন, বিভেদ নয়, ঐক্যই হোক বাংলার পরিচয়।”

Advertisement
ads ads
Continue Reading
Advertisement ads