সুতো আমদানিতে রাশ টানল ঢাকা, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন চাপানউতোর
Connect with us

দেশ

সুতো আমদানিতে রাশ টানল ঢাকা, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন চাপানউতোর

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারত থেকে স্থলপথে সুতো আমদানি নিষিদ্ধ করল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন ইউনূস প্রশাসন। মঙ্গলবার এই মর্মে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। দেশের পাঁচটি মূল স্থলবন্দর—বেনাপোল, বাংলাবান্ধা, বুড়িমারি, ভোমরা ও সোনামসজিদ—দিয়ে ভারতীয় সুতো আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদিও সমুদ্র ও আকাশপথে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।

বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’-র প্রতিবেদন অনুসারে, এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশের বস্ত্র শিল্পে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতো ব্যবহারে উৎসাহ দিতেই এই পদক্ষেপ। ফলে ভারতীয় তুলনামূলক কমদামি সুতোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অসুবিধায় পড়া দেশীয় ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

মূল কারণ কী?

বস্ত্রশিল্প মালিকদের সংগঠনগুলির তরফে ফেব্রুয়ারি মাসেই ভারত থেকে স্থলপথে সুতো আমদানির বিরুদ্ধে সরব হওয়া হয়েছিল। এরপর মার্চে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই এনবিআর এই সিদ্ধান্ত নেয় বলে সরকারি সূত্রে খবর।

আরও পড়ুনঃ গোবর-গবেষণায় উত্তাল দিল্লির কলেজ: অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তে ছাত্রদের তীব্র প্রতিবাদ

Advertisement
ads

তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্ত কেবল অর্থনৈতিক নয়, তার মধ্যে রয়েছে কূটনৈতিক ইঙ্গিতও। সম্প্রতি বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় আসা ইউনূস প্রশাসন চিনের দিকে ঝুঁকেছে বলেই আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা। চিন সফরে গিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ভারত মহাসাগরকে ‘ওনলি গার্ডিয়ান অফ দ্য ওশন’ বলেও অভিহিত করেছিলেন—যা দিল্লির কূটনৈতিক মহলে ভালভাবে নেওয়া হয়নি।

ভারতের পাল্টা পদক্ষেপ

এই ঘটনার কয়েক দিন আগেই ভারতও বাংলাদেশমুখী একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা বাতিল করেছিল। সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ইনডিরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস (CBIC) জানায়, বাংলাদেশের জন্য ট্রান্সশিপমেন্ট ফেসিলিটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হচ্ছে। এর ফলে ভারতের বন্দর বা বিমানবন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে পণ্য রফতানির সুবিধা আপাতত পাচ্ছে না ঢাকা।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব?

পরপর এই দুই সিদ্ধান্তকে ঘিরে তৈরি হয়েছে কূটনৈতিক টানাপড়েনের সম্ভাবনা। দিল্লির কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই ধরনের বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের গতিপথ বদলে দিতে পারে। তবে সরকারিভাবে এখনই কোনও মন্তব্য করেনি দুই দেশই।

ভারত থেকে বাংলাদেশে সুতো রফতানিকারক ব্যবসায়ীদের একাংশ এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশে ভারতীয় সুতোর বড় বাজার থাকায় এই নিষেধাজ্ঞার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের একাধিক সুতোর কারখানার উপর।

Advertisement
ads

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এই নতুন ঘূর্ণাবর্তে আগামিদিনে আরও কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা নজরে রাখছে দুই দেশের বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রক।

Continue Reading
Advertisement