স্বাস্থ্য
গোবর-গবেষণায় উত্তাল দিল্লির কলেজ: অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তে ছাত্রদের তীব্র প্রতিবাদ
ডিজিটাল ডেস্কঃ ‘প্রাকৃতিক উপায়ে ঘর ঠান্ডা’ করার অজুহাতে কলেজের ক্লাসরুমের দেওয়ালে গোবর লেপে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কে জড়ালেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত রানি লক্ষ্মীবাই কলেজের অধ্যক্ষ প্রত্যুষ বৎসলা। এই ঘটনায় প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে কলেজ চত্বর। অধ্যক্ষের ঘরের সামনে ছাত্ররা ‘গোবরের পাল্টা গোবর’ ছুঁড়ে প্রতিবাদ জানান।
আরও পড়ুনঃ স্ত্রী অন্য ঘর বেঁধেছিলেন, মানসিক অবসাদে মৃত্যু? নববর্ষে মৃতদেহ উদ্ধার
ঘটনার সূত্রপাত কলেজ ক্যান্টিন সংলগ্ন সি-ব্লকের একটি ক্লাসরুমে। সেখানকার ফ্যান কাজ না করায়, ঘর ঠান্ডা রাখার ‘গবেষণার অংশ’ হিসেবে অধ্যক্ষ নিজেই চেয়ারে দাঁড়িয়ে দেওয়ালে গোবর লাগান। তাঁর সঙ্গে সহযোগিতা করেন কলেজের এক অশিক্ষক কর্মী। পরে সেই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়, এবং মুহূর্তেই বিতর্কের ঝড় ওঠে।
The principal of Delhi University’s Laxmibai College has been caught on video coating the walls of a classroom with cow dung. When asked, The Principal Pratyush Vatsala told that the act was part of an ongoing research, being undertaken by a faculty member. pic.twitter.com/zdmvnFqdWx
— Mohammed Zubair (@zoo_bear) April 14, 2025
কলেজ অধ্যক্ষের এই উদ্যোগের প্রতিবাদে মঙ্গলবার কলেজ চত্বরে বিক্ষোভ দেখায় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ। ছাত্র সংসদের সভাপতি রোনক ক্ষেত্রী নেতৃত্বে একদল পড়ুয়া অধ্যক্ষের ঘরের সামনে গিয়ে ‘গোবর নীতির’ বিরোধিতা করেন। তাঁদের দাবি, এমন কোনও উদ্যোগের আগে পড়ুয়াদের সম্মতি নেওয়া উচিত ছিল।
आज दिल्ली विश्वविद्यालय छात्रसंघ अध्यक्ष रौनक खत्री ने लक्ष्मीबाई कॉलेज की प्रिंसिपल ऑफिस में गोबर पोत दिया।
दिल्ली यूनिवर्सिटी के लक्ष्मीबाई कॉलेज में प्रिंसिपल ने अपने हाथों से क्लासरूम की दीवारों पर गोबर पोतने को प्रोजेक्ट बताया था। pic.twitter.com/s8RInAGIIo
— Sandeep Khasa (@SamKhasa_) April 15, 2025
ক্ষেত্রী বলেন, “গবেষণা করতে হলে তা বাড়িতে গিয়ে করুন। ক্লাসরুমে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। আমরা আশা করি, অধ্যক্ষ এবার নিজের ঘরের এসি খুলে ছাত্রদের হাতে তুলে দেবেন, এবং এই প্রাকৃতিক শীতল পরিবেশেই অফিস চালাবেন।”
অন্যদিকে, অধ্যক্ষ প্রত্যুষ বৎসলা নিজের অবস্থান বজায় রেখে বলেন, “স্টাডি অফ হিট স্ট্রেস কন্ট্রোল বাই ইউজ়িং ট্র্যাডিশনাল ইন্ডিয়ান নলেজ” শীর্ষক গবেষণার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর প্রভাব এক সপ্তাহ পর বোঝা যাবে।
তবে প্রশ্ন উঠেছে এই পদক্ষেপের প্রক্রিয়াগত বৈধতা নিয়ে। কলেজের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য তথা অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর নীলম প্রশ্ন তোলেন, “অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া ক্লাসরুমে এই ধরনের কোনও পরিবর্তন কী করে করা হল?”
সামগ্রিকভাবে, গোবর-গবেষণাকে ঘিরে কলেজ জুড়ে তৈরি হয়েছে দ্বিধা ও বিতর্ক। প্রশাসনিক অনুমতি এবং শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করে এমন পদক্ষেপ আদৌ যুক্তিযুক্ত কি না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
