চাকরির জন্য খুন! স্ত্রীর হাতে প্রাণ গেল রেলকর্মীর, ধৃত প্রেমিক-সহ
Connect with us

খুন

চাকরির জন্য খুন! স্ত্রীর হাতে প্রাণ গেল রেলকর্মীর, ধৃত প্রেমিক-সহ

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ উত্তরপ্রদেশের বিজনৌর জেলায় ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা, যা প্রায় হুবুহু মিলে গিয়েছে কিছুদিন আগে মিরাটে ঘটে যাওয়া সৌরভ রাজপুর হত্যাকাণ্ডের সাথে। এবার অভিযোগ উঠেছে—রেল টেকনিশিয়ান এর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। স্বামীকে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে হত্যা করেছেন তাঁর স্ত্রী এবং স্ত্রীর প্রেমিক।

২৯ বছরের দীপক কুমার ছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের একজন রেলকর্মী। ঘটনাটি ঘটেছে ৪ এপ্রিল। সেদিন বাড়ির পূজায় অংশ নিচ্ছিলেন দীপক ও তাঁর স্ত্রী শিবানী। পূজা শেষ হবার পর আচমকাই দীপক অচেতন হয়ে পড়েন এবং তার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। শিবানীর দাবি ছিল, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তিনি নিজেই থানায় খবর দেন।

আরও পড়ুনঃ প্রতিবাদই কাল! মেয়েদের রক্ষায় লড়েছিলেন মা, বন্দুকধারীদের হাতে ধর্ষণের শিকার

থানায় খবর দেবার আগে শিবানী নিজের ভগ্নিপতিকে ফোন করে জানিয়েছিলেন দীপকের ‘হার্ট অ্যাটাক’ হয়েছে। তাকে হসপিটাল নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু ভগ্নিপতি এসে পৌঁছানর অনেক আগেই দীপকের মৃত্যু হয়েছিল তাঁর নিজের স্ত্রীর হাতে। তবে দীপকের পরিবারের সন্দেহ দানা বাঁধে শিবানীর আচরণে। কারণ, শিবানী বার বার বলছিল দীপকের হার্ট অ্যাটাক করেছিল। আর বার বার ময়নাতদন্তের জন্য মানা করছিল। শোকস্তব্ধ পরিবার ময়নাতদন্তের দাবি জানায়। ৬ এপ্রিল আসা রিপোর্টে প্রকাশ, দীপকের মৃত্যু হৃদরোগে নয়, বরং শ্বাসরোধ করে হত্যার ফলে হয়েছে।

Advertisement
ads

এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরই পরিস্থিতি ঘুরতে শুরু করে। তদন্তে নেমে পুলিশ দীপকের স্ত্রী শিবানী ও তাঁর প্রেমিককে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—দীপকের চাকরি ও আর্থিক স্থিতিকে কেন্দ্র করেই এই হত্যার ছক কষা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীপককে প্রথমে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়, এরপর গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

 দীপকের ভাই ও মা সরাসরি অভিযোগ করেছেন—স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিক মিলে ষড়যন্ত্র করে দীপককে খুন করেছেন। অভিযোগ, গত দেড় বছর ধরে শিবানীর অন্য এক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল, এবং সেই সম্পর্ক ঘিরেই এই মর্মান্তিক পরিণতি। শিবানীকে জেরা করে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এসিপি সঞ্জীব বাজপেয়ী জানিয়েছেন, একটানা জিজ্ঞাসাবাদের পর ধীরে ধীরে আসল সত্য সামনে আসে।

প্রসঙ্গত,  গত বছর ১৭ জুন দীপক ও শিবানীর বিবাহ হয়। লাভ ম্যারেজ হলেও, সম্পর্ক দ্রুত অবনতি ঘটেছিল। তাঁদের ছয় মাসের একটি সন্তানও রয়েছে। দীপক এর আগে মণিপুরে CRPF-এ কর্মরত ছিলেন, রেলে যোগ দেন ২০২৩ সালে।

Advertisement
ads