বিশ্বের খবর
“আমি আসছি” — দেশে ফেরা নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা শেখ হাসিনার
ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঘিরে আবারও উত্তাল পরিস্থিতি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে জল্পনার পারদ চড়ছে। এমন এক সময়েই ব্যাঙ্ককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান মহম্মদ ইউনুসের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে হাসিনা প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছে বলে শোনা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, বৈঠকে ইউনুসের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার ‘ভারতবাসে’ অবস্থান এবং তাঁর দিল্লি থেকে মন্তব্য করার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। দাবি করা হয়, প্রধানমন্ত্রী মোদী এই প্রসঙ্গে কোনও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেননি। যদিও ভারতের পক্ষ থেকে এই দাবি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এই জল্পনার মধ্যেই জানা গিয়েছে, শেখ হাসিনার ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে ভারত সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সবুজ সংকেতের পর দিল্লির ফরেন রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের মাধ্যমে এই ভিসা বৃদ্ধি হয়েছে।
দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনে আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মীদের উপর ক্রমাগত দমন-পীড়নের অভিযোগ উঠছে ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই আওয়ামি লিগ নিষিদ্ধ করার দাবিতে সরব হয়েছে জামাত ও এনসিপি। সেনা প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান অবশ্য পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘রিফাইন্ড আওয়ামি লিগ‘-এর বার্তা দিয়েছেন বলেও গুঞ্জন শোনা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দেশ ছাড়লেও আওয়ামি কর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংযোগ রাখছেন শেখ হাসিনা। সম্প্রতি এক বার্তায় তিনি বলেন, “চিন্তা করবেন না। আমি সব ঘটার বিচার করব। আল্লাহ তাই বাঁচিয়ে রেখেছেন। আমি আসছি।” একই সঙ্গে তিনি ফের একবার মহম্মদ ইউনুসকে আক্রমণ করে বলেন, “সুদখোর, মানবতাবিরোধী, ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য অত্যাচার চালাচ্ছেন। তাঁদের বিচার বাংলাদেশে হতেই হবে।”
আরও পড়ুনঃইজরায়েলের পতাকা হাতে অর্জুন সিং, উত্তাল রাজনীতি, এফআইআরে নাম তৃণমূল বিধায়কের
২০২৪ সালের ৫ অগস্ট দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। তারপর থেকেই বর্তমান সরকার তাঁর ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে। ইউনুস সরকারের তথ্য অনুযায়ী, হাসিনা পরিবার ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের ১২৪টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ৬৩৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর আমলে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে।
এছাড়া, হাসিনা সহ ৯৭ জনের পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে শেখ হাসিনা ও আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে জারি হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। অভিযোগ, গুম-খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিলেন তাঁরা। ভারতে বসবাস করলেও শেখ হাসিনাকে ‘রাজনৈতিক আশ্রয়’ দেওয়া হয়নি। কারণ, ভারতের আইন অনুযায়ী এমন কোনও সরাসরি ‘পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম’ নীতিমালা নেই। তবে ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভিসা নবীকরণ করে তাঁকে বৈধভাবে ভারতে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা না গেলেও, তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্য, ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ এবং দিল্লির নীরব সমর্থন—এই সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।
