বিশ্বের খবর
ইজরায়েল-লেবানন সংঘর্ষবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর! তবু কাটছে না হেজবোল্লার গৃহযুদ্ধের হুমকি
ডিজিটাল ডেস্কঃ দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর অবশেষে আমেরিকার (United States) মধ্যস্থতায় ইজরায়েল (Israel) ও লেবাননের (Lebanon) মধ্যে সংঘর্ষবিরতির (Ceasefire) গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার ওয়াশিংটনে (Washington) দুই দেশের রাষ্ট্রদূত এই সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যে (Middle East) শান্তি ফেরানোর পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, হেজবোল্লার (Hezbollah) অবস্থান নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ধাপে ধাপে ইজরায়েলি সেনা (Israeli Forces) প্রত্যাহার করা হবে। এরপর ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেবে লেবাননের জাতীয় সেনাবাহিনী (Lebanese Army)। পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য আমেরিকা একটি সামরিক সমন্বয় (Military Coordination) গোষ্ঠী গঠন করেছে। পাশাপাশি লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ১০ কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ওয়াশিংটন।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা মোয়াদ এবং ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও (Marco Rubio) বলেন, এটি শান্তির পথে প্রথম পদক্ষেপ হলেও সামনে এখনও অনেক কঠিন পথ অতিক্রম করতে হবে।
তবে আশঙ্কার জায়গা একটাই—হেজবোল্লা। ইরান (Iran) সমর্থিত এই সংগঠন স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা চুক্তি বাস্তবায়নে কোনও সহযোগিতা করবে না। এমনকি প্রয়োজন হলে গৃহযুদ্ধের (Civil War) পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে তারা। ফলে এই সমঝোতা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আন্তর্জাতিক মহলে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। এরপর হেজবোল্লার হামলা আরও তীব্র হয় এবং লেবাননের মাটিতে ইজরায়েলি সামরিক অভিযান শুরু হয়। এই সংঘাতে চার হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) জানিয়েছেন, প্রথমে পরীক্ষামূলক (Pilot Zone) এলাকা থেকে সেনা সরানো হবে। যদিও চুক্তির পর ইজরায়েল শান্তির বিষয়ে আশাবাদী, হেজবোল্লার বিরোধিতা এবং ইরান-আমেরিকার টানাপোড়েন পরিস্থিতিকে এখনও অনিশ্চিত করে রেখেছে। এখন নজর থাকবে, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির পথ খুলে দিতে পারে কিনা।
