ভাইরাল খবর
বন্ধুর ফাঁদে পা! হুক্কা বার নিয়ে গিয়ে শুরু গণধর্ষণ ভয়াবহ অধ্যায়
ডিজিটাল ডেস্কঃ উত্তর প্রদেশের বারাণসীতে ঘটে গেল এক রুদ্ধশ্বাস ও মর্মান্তিক ঘটনা। মাত্র ১৯ বছর বয়সি দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে সাত দিন ধরে আটকে রেখে ২৩ জন মিলে গণধর্ষণের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল। ইতিমধ্যেই পুলিশ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে, বাকিদের খোঁজে চলছে তল্লাশি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ মার্চ। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই তরুণী পিশাচমোচন এলাকার একটি হুক্কা বারে পরিচিত এক যুবকের সঙ্গে দেখা করতে যান। তারপর সেই ছেলের সাথে একটি টেবিলে বসে খাবার খাচ্ছিলেন ছাত্রী। তারপর সেখানেই আরও কয়েকজন যুবকের সঙ্গে আলাপ হয়। তরুণীর অভিযোগ, কোল্ড ড্রিঙ্কে মাদক মিশিয়ে তাঁকে বেহুঁশ করে একাধিক হোটেল ও জায়গায় নিয়ে গিয়ে টানা সাত দিন ধরে একের পর এক নরকযন্ত্রণা চালানো হয়েছে তারওপর।
তরুণী জানিয়েছেন, ওই দিন তরুণীকে বেহুঁশ করার পর সিগ্রা এলাকার একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই প্রথমবার তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়। এরপর ৩০ মার্চ অন্য এক জায়গায় নিয়ে গিয়ে ফের ধর্ষণ করা হয়। ৩১ মার্চ তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় মালদহিয়ার একটি ক্যাফেতে। অভিযোগ, সেখানে তাঁকে আবার মাদক খাইয়ে পাঁচজন মিলে গণধর্ষণ করে। ১ এপ্রিল ফের পাঁচজন যুবক একটি হোটেলে গণধর্ষণে লিপ্ত হয়। হোটেল থেকে বেরোনোর চেষ্টা করলে আরেক ব্যক্তি তাঁকে জোর করে অন্য একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে এবং পরে রাস্তায় ফেলে দেয়। এরপর আরও তিনজন তাঁকে তুলে নিয়ে যায় ঔরঙ্গাবাদের একটি গুদামে। সেখানে আবারও গণধর্ষণ করা হয়। পরে তাঁকে অন্য একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে দু’জন মিলে ধর্ষণ করে।
আরও পড়ুনঃ মৃত্যুর পরেও উপহার—মরণোত্তর দানে কিশোরীর অঙ্গে বেঁচে থাকল মানবতা
অবশেষে, কোনওভাবে পালিয়ে সিগ্রার একটি মলের সামনে এসে বসে মেয়েটি। কিন্তু সেখানেও থামে না পৈশাচিকতা। ২ এপ্রিল দু’জন যুবক তাঁকে নুডলসের সঙ্গে মাদক খাইয়ে আবার ধর্ষণ করে এবং আসি ঘাটে ফেলে দেয়। পরদিন ৩ এপ্রিল, কোনমতে তরুণী এক বন্ধুর বাড়িতে পৌঁছন। তবে অতিরিক্ত মাদক দেবার কারণে, বন্ধুর বাড়িতেই নেশার ঘোরে ঘুমিয়ে পড়লে সেই বন্ধু তাঁকে হোটেলে নিয়ে গিয়ে আরও কয়েকজনকে ডেকে এনে ফের গণধর্ষণ করে এবং তাঁকে চৌকাঘাটে ফেলে দেয়।
অবশেষে ৪ এপ্রিল কোনওরকমে বাড়ি ফিরে আসেন নির্যাতিতা। পরিবারের কাছে সব কিছু খুলে বলার পর সোজা থানায় যান তাঁরা। তার ভিত্তিতে দায়ের হয় এফআইআর। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায়—যেমন ৭০(১) (গণধর্ষণ), ১২৬(২) (অন্যায়ভাবে আটকে রাখা), ১২৩ (মাদক প্রয়োগ) সহ অন্যান্য ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তরুণীর মেডিক্যাল পরীক্ষাও হয়েছে। প্রমাণ সংগ্রহে বিভিন্ন জায়গা থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসিপি বিদুষ সাক্সেনা জানান, ৬ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকিদের খোঁজে চলছে তল্লাশি। এই ঘটনার পর যোগী সরকারের নারী সুরক্ষা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে ক্ষোভের ঝড়। গণধর্ষণকারীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব সাধারণ মানুষ।
