রাজনীতি
‘আপনারা গদ্দারদের আশ্রয় দেন’, বিজেপিকে একহাত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা
ডিজিটাল ডেস্কঃ সপ্তাহের শুরুতেই ফের উত্তপ্ত হল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা (Bidhansabha)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বক্তব্য রাখতে শুরু করতেই প্রতিবাদে সরব হয়ে ওঠেন বিজেপি (BJP) বিধায়করা। জোর হট্টগোল, স্লোগান, টেবিল চাপড়ে বিক্ষোভ—এর মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষের সুরে বলেন, “আমি বিধানসভায় ঢুকলেই ওদের আর প্রশ্ন থাকে না। যুক্তি ফুরিয়ে যায়। তখন অপপ্রচার আর স্লোগানে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।”
মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি নাম না করলেও তাঁর নিশানায় ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder)। তীব্র ভাষায় মমতা বলেন, “আপনাদের হাফ মিনিস্টার আমাদের এলাকায় গিয়ে এক পাঞ্জাবি অফিসারকে জুতো ছুঁড়ে মারেন। এটা কি রাজনৈতিক সৌজন্য?” এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দেন, “আমার বাড়িতে যদি কেউ ঢোকার চেষ্টা করেন, আমরাও জানি কোথায় যেতে হয়। বাড়াবাড়ি করলে জবাব পেতে হবে।” বিরোধীদের আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আপনারা গদ্দারদের আশ্রয় দেন, যারা দেশের স্বার্থ বিক্রি করেছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নেই, আর আপনারা বড় বড় কথা বলেন!”
আরও পড়ুনঃ শুটিংয়ে গিয়ে নিখোঁজ, গলা কাটা অবস্থায় মিলল মডেল শীতলের দেহ
গুজরাত (Gujarat) প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গুজরাতে যা ঘটেছিল, আমরা রাজনৈতিক সৌজন্যের কারণে চুপ ছিলাম। কিন্তু সেই সৌজন্যের অপব্যবহার করবেন না। এত যদি হাওয়াই চটি পছন্দ হয়, তা হলে হাওয়াই চটির দোকান খুলুন। ব্যবসা মন্দ হবে না।” প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে বিজেপির তোলা প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমার সব ফাইল কেন্দ্রের কাছে আছে। আমি যাওয়ার পরেও ওরা কোনও কিছু পায়নি। আমি এক পয়সা বেতন নিই না। সার্কিট হাউসে থাকা-খাওয়ার খরচ নিজের পকেট থেকে দিই।”
ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, “আমি কী খাব, কী পরব—সেটা অন্য কেউ ঠিক করবে না। কারও এত সাহস নেই।” সবশেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, “২০২৬ সালে আপনারা রাজনীতিতে শূন্য হয়ে যাবেন। মানুষ সব বুঝে গিয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিজেপির প্রতিবাদ আরও জোরদার হয়। বিধানসভার বাইরে এসে বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেন, “বিরোধীরা কোনও প্রশ্ন করলেই বাধা দেওয়া হয়। আমাদের কথা বলতে দেওয়া হয় না।”
এদিন বিজেপি বিধায়ক মনোজ ওঁরাওকে (Manoj Orao) বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড করা হয় অধিবেশন পরিচালনায় বাধা দেওয়ার অভিযোগে। এরপরেই বিজেপি বিধায়করা ওয়াকআউট করে অধিবেশন থেকে।
