হামলা
‘জাতীয় স্বার্থে আমরা এক’, কিন্তু তথ্য দিক সরকার—রাহুলের খোলা চিঠি মোদিকে
ডিজিটাল ডেস্ক: সংঘর্ষের আবহে কিছুদিন আগে অবধি একজোট ছিল দেশের রাজনৈতিক মহল। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কেন্দ্রের পাশে ছিল বিরোধী দলগুলিও। তবে হঠাৎ যুদ্ধবিরতির (Ceasefire) সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই ভিন্ন সুরে কথা বলতে শুরু করেছে বিরোধীরা। একাধিক প্রশ্ন তুলে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়েছে।
এই প্রেক্ষিতে এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) উদ্দেশে সরাসরি চিঠি লিখলেন কংগ্রেস নেতা ও বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তাঁর দাবি, পহেলগাঁও (Pahalgam) সন্ত্রাস, তার পরবর্তী অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor), এবং সর্বশেষ সংঘর্ষবিরতির সিদ্ধান্ত—এই তিনটি বিষয়ে সংসদীয় আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তাই কেন্দ্রকে অবিলম্বে সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
রাহুলের মতে, “এই মুহূর্তে দেশের সামনে বহু জটিলতা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্নে সমস্ত রাজনৈতিক দল একজোট। কিন্তু সরকার যা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তার ব্যাখ্যা দেশবাসীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের কাছেও থাকা উচিত। এই কারণে আমি সম্মিলিত বিরোধীদের পক্ষ থেকে আবারও সংসদের বিশেষ অধিবেশন চেয়ে অনুরোধ জানাচ্ছি।”
আরও পড়ুনঃ পুলওয়ামা হামলা নিয়ে মুখোশ খুলল পাকিস্তান, সরাসরি স্বীকারোক্তি পাক বায়ুসেনার শীর্ষ কর্তার
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁও এলাকায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয় ২৬ জন নিরীহ মানুষের, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন পর্যটক। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত জবাব দেয় সীমান্ত পেরিয়ে চালানো অপারেশন ‘সিঁদুর’-এর মাধ্যমে। কিন্তু এর পরেই হঠাৎ করেই সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা আসে। আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায় যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রকাশ্যে দাবি করেন, তাঁর মধ্যস্থতাতেই ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে ভারত সরকারের তরফ থেকেও সেই ঘোষণার সরকারি স্বীকৃতি আসে।
এই ঘটনার জেরে প্রশ্ন তুলেছেন রাহুল। বিশেষত, তিনি জানতে চেয়েছেন, ভারতের মতো সার্বভৌম রাষ্ট্রের পক্ষে কেন যুদ্ধবিরতির ঘোষণা অন্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধান করবেন? তাঁর বক্তব্যে পরোক্ষভাবে বোঝানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক চাপেই কি ভারতকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হল?
উল্লেখ্য, কংগ্রেস (Congress) সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি বেশ কয়েকদিন ধরেই পহেলগাঁও হামলা নিয়ে সংসদে আলোচনা চেয়ে আসছে। তবে তাতে এখন পর্যন্ত সাড়া দেয়নি সরকার। কিন্তু সংঘর্ষবিরতির পর এই দাবিকে নতুন করে উস্কে দিল রাহুলের চিঠি।
তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “জাতীয় স্বার্থে আমরা সরকারের পাশে থাকবই। কিন্তু একই সঙ্গে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সত্য জানতে চাওয়াও আমাদের কর্তব্য। তাই এই তিন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় সংসদে খোলাখুলি আলোচনা হোক, এটাই আমাদের অনুরোধ।”
