দেশ
ভোটার পরিষেবায় ডিজিটাল বিপ্লব, নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় নজর ভোটারদের
ডিজিটাল ডেস্কঃ নাগরিকদের ভোটাধিকার চর্চাকে আরও নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী করে তুলতে অভিনব তিনটি পদক্ষেপ ঘোষণা করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকার নির্ভুলতা, বুথ স্তরে পরিষেবা এবং ভোটার–সংশ্লিষ্ট তথ্য আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগগুলির কথা সম্প্রতি জানানো হয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী আধিকারিকদের বার্ষিক বৈঠকে।
মৃতদের নাম সরাতে প্রযুক্তির সাহায্যঃ
ভোটার তালিকা হালনাগাদে দীর্ঘদিন ধরেই বড় সমস্যা হয়ে ছিল মৃত ব্যক্তিদের নাম বাদ না পড়া। এবার সেই ব্যবস্থাতেই আসছে পরিবর্তন। সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রার অফিস থেকে সরাসরি ডিজিটাল তথ্য নিয়ে মৃত নাগরিকদের নাম নিজে থেকেই তালিকা থেকে বাদ দেবে নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ, কমিশন এবার সরাসরি রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া থেকে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করবে। নির্বাচক নিবন্ধন বিধিমালা, ১৯৬০-এর বিধি ৯ এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ১৯৬৯-এর সংশোধিত ধারা ৩(৫)(খ)-এর আওতায় এই প্রক্রিয়া চালু হচ্ছে। তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট বুথ স্তরের অফিসার (BLO) মাঠে গিয়ে যাচাই করে প্রয়োজনে তালিকা হালনাগাদ করবেন—Form 7 জমা দেওয়ার প্রথাগত প্রক্রিয়ার আর প্রয়োজন পড়বে না।
ভোটার স্লিপ আরও সহজবোধ্যঃ
ভোটকেন্দ্র খুঁজে পেতে যাতে আর বিভ্রান্তি না হয়, তার জন্য ভোটার তথ্য স্লিপের নকশায় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এখন থেকে ভোটারের পার্ট নম্বর এবং সিরিয়াল নম্বর বড় হরফে ও সুস্পষ্টভাবে ছাপানো থাকবে, যা ভোটারদের পাশাপাশি নির্বাচনী কর্মীদেরও কাজ সহজ করবে।
পরিচয়পত্র পেলেন BLO-রাঃ
জনসেবায় যুক্ত BLO-দের পরিচিতি বাড়াতে এবার তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে স্ট্যান্ডার্ড ছবি-সহ পরিচয়পত্র। ১৯৫০ সালের প্রতিনিধিত্ব আইনের নির্ধারিত বিধি অনুসারে এই পরিচয়পত্র ইস্যু করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ তাঁদের চিহ্নিত করে নির্ভয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ভাগ করতে পারেন।
এই তিনটি পদক্ষেপ শুধু নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করে তুলবে না, বরং ভোটারদের আস্থা বাড়াবে বলেই মনে করছে কমিশন। আধুনিক প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার করে ভবিষ্যতের নির্বাচনী পরিকাঠামোকে আরও মজবুত ও জনমুখী করে তোলাই এই উদ্যোগগুলির লক্ষ্য।
