অফবিট
আরশোলার দুধ গরুর দুধের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর! বিশ্বজুড়ে গবেষণায় চমক
ডিজিটাল ডেস্কঃ বিশ্বজুড়ে পুষ্টির নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে এক বিস্ময়কর আবিষ্কার—আরশোলার (Cockroach) দুধ গরুর দুধের (Cow Milk) তুলনায় তিনগুণ বেশি পুষ্টিকর! হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। গবেষকরা বলছেন, এই দুধ হতে পারে ভবিষ্যতের সুপারফুড (Superfood)।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের Diploptera punctata নামের একটি বিশেষ প্রজাতির আরশোলা অন্য সাধারণ আরশোলার মতো নয়। এটি ডিম পাড়ে না, বরং সরাসরি জীবন্ত সন্তান জন্ম দেয় (Gives birth to live young)। সেই সন্তানদের পুষ্টি জোগাতে এটি দুধের মতো একটি তরল নিঃসরণ করে, যা প্রোটিন-সমৃদ্ধ ক্রিস্টাল (Protein-rich crystal) আকারে থাকে।
ভারতের Institute for Stem Cell Biology and Regenerative Medicine-এর গবেষকরা জানিয়েছেন, এই প্রোটিন ক্রিস্টালের একটি মাত্র ইউনিট গরুর দুধের চেয়ে তিনগুণ বেশি ক্যালোরি (Calories) সরবরাহ করে। শুধু ক্যালোরিই নয়, এতে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ প্রোটিন (Complete Protein), অর্থাৎ প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড (Amino Acids), লিপিড (Lipids) এবং শর্করা (Carbohydrates)—যা শরীরে ধীরে ধীরে শক্তি (Sustained Energy Release) দেয়।
এই দুধ সরাসরি খাওয়ার মতো এখনো প্রস্তুত নয়। কারণ, প্রতিটি আরশোলা খুব অল্প পরিমাণ দুধ নিঃসরণ করে। তাই বাণিজ্যিক উৎপাদন (Commercial Production) এখনও চ্যালেঞ্জিং (Challenging)। বিজ্ঞানীরা তাই জৈবপ্রযুক্তি (Biotechnology) ব্যবহার করে ইস্ট বা খামির ব্যাকটেরিয়া (Yeast) দিয়ে এই প্রোটিন কৃত্রিমভাবে তৈরির চেষ্টা করছেন।
তবে এখনো এই দুধকে খাদ্যপণ্য হিসেবে অনুমোদন (Food-grade approval) দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি, এই ধরনের পোকা-ভিত্তিক খাদ্য (Insect-based food) নিয়ে সামাজিক, নৈতিক এবং মানসিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে।
তবে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট (Food Crisis) এবং জলবায়ু পরিবর্তন (Climate Change)-এর প্রেক্ষিতে, গবেষকরা মনে করছেন—এই ধরনের বিকল্প প্রোটিন উৎস আগামী দিনে টেকসই পুষ্টি (Sustainable Nutrition) এবং খাদ্য নিরাপত্তার (Food Security) অন্যতম চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে।
