কলকাতা
হুমায়ূনের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় তৃণমূল, শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির কড়া মনোভাব!
ডিজিটাল ডেস্কঃ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য করেছিলেন, তৃণমূলের মুসলিম বিধায়কদের চ্যাংদোলা করে রাস্তায় ছুড়ে ফেলার। এই মন্তব্য থেকে ঘটনার সূত্রপাত। এই মন্তব্যে পাল্টা দিয়েছে খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। এরপর সেই মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির। তারপর আবারও হুমায়ুন কবিরকে শোকজ করা হয়েছে দলের পক্ষ থেকে।
গত বৃহস্পতিবার বিধানসভা অধিবেশনের পর বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠক ছিল। সূত্রের খবর, সেখানে বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের এক মন্তব্য নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন দলনেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য ছিল, আমাকে মারতে এলে রসগোল্লা খাওয়াবো নাকি? ঠুসে দেব। ক্ষমতা থাকলে মুর্শিদাবাদে আসুন, দেখে নেব। মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শক্রমেই তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক অর্থাৎ হুমায়ুন কবিরকে শোকজ করে। এরপর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব তলব করা হয় তাঁর। সেই শোকজের পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার জবাবও দেন হুমায়ুন কবির। শুভেন্দু অধিকারীকে ঠুসে দেওয়া মন্তব্যে অনড় হুমায়ুন কবীর।
আরও পড়ুনঃ আইপিএলে নেতৃত্ব বদল: বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক পাটীদার, কোহলির অস্বীকৃতি নিয়ে জল্পনা!
এদিকে শোকজের জবাবে সন্তুষ্ট হয়নি তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি বলেই খবর। এদিন সোমবার শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বৈঠক করেন। বৈঠকের পর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানান, সব রাজনৈতিক দলের কিছু মতাদর্শ আছে। হুমায়ূন এমন কিছু বারবার বলছে যা দলের আদর্শের পরিপন্থী। উনি যা বলেছেন সেটা ওনার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু একজন বিধায়ক হয়ে একথা বলতে পারে না। ও শোকজের জবাবে যা বলেছে তা সন্তোষজনক নয়। উনি বলেছেন এটা ওনার জাতের বিষয়। কিন্তু, এখানে জাতের কথা আসলে সংবিধানকে অবজ্ঞা করা হয়।
এ প্রসঙ্গে হুমায়ুন বলেন ,দলের আগে ধর্ম। তাই হুমায়ূনকে মঙ্গলবার ফের ডেকে পাঠানো হয়েছে হুমায়ূনকে। শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সামনে সশরীরে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। সেখানে কিছু নির্দেশ দেয় হবে যা মানতেই হবে হুমায়ূনকে। দলের নির্দেশ না মানলে কি কড়া শাস্তি পেতে হবে হুমায়ুনকে, স্বাভাবিকভাবেই উঠছে সে প্রশ্ন। হুমায়ুনের বিরুদ্ধে কি আরও কড়া শাস্তির পথে দল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর আলোচনা।
