ধর্ম
সাড়ে তিন ঘণ্টার জামিন, তারপর ফের জেলে! চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের মুক্তিতে স্থগিতাদেশ
ডিজিটাল ডেস্কঃ মুক্তির আশায় একঝলক আশার আলো দেখা দিলেও, মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও চট্টগ্রাম জেলের চার দেওয়ালের মধ্যে ফিরে গেল চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের জীবনের ক্যালেন্ডার। বাংলাদেশ হিন্দু জাগরণ ঐক্য মঞ্চের আহ্বায়ক এবং বিশিষ্ট ধর্মগুরু চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিনের রায় বুধবার দুপুরে ঘোষণা করেছিল হাইকোর্ট। কিন্তু সন্ধ্যার আগেই আপিল বিভাগ সেই রায়ে স্থগিতাদেশ জারি করে দেন।
বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ জানায়, হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের অনুলিপি প্রকাশ এবং নিয়মিত লিভ টু আপিল দায়ের না হওয়া পর্যন্ত চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে মুক্তি দেওয়া যাবে না। ফলে অন্তত আপাতত জেলেই কাটাতে হচ্ছে এই ধর্মীয় নেতাকে, যিনি বিগত পাঁচ মাস ধরে বন্দি। ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের এক রাজনৈতিক নেতার দায়ের করা অভিযোগে গ্রেপ্তার হন চিন্ময়কৃষ্ণ। তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি দায়ের করেছিলেন বিএনপির এক নেতা ফিরোজ খান। পরে অভিযোগের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দিক বিবেচনা করে দল ওই নেতাকে বহিষ্কার করলেও মামলা থেকে মুক্তি মেলেনি চিন্ময়কৃষ্ণের।
আরও পড়ুনঃ ৬ মাস জেলে থাকার পর জামিন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের, নীরব হলো ইউনূস প্রশাসন
চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে তাঁর এক সমর্থকের হাতে এক তরুণ আইনজীবী প্রাণ হারিয়েছেন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই রাষ্ট্রপক্ষ বারবার জামিনের বিরোধিতা করে এসেছে। তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষোভ জমেছিল এই মামলার প্রক্রিয়া ও বিচারপ্রক্রিয়া ঘিরে। সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির অভিযোগ, একজন ধর্মগুরুকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় দীর্ঘ সময় ধরে জেলে আটকে রাখা সরকারের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের পরিচায়ক। বুধবার দুপুর ২টার দিকে উচ্চ আদালতের দুই বিচারপতি চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে জামিনের নির্দেশ দেন। আদালত ওই সময় মনে করে, অভিযুক্তকে জামিনে মুক্তি দিলে তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনও বাধা আসবে না। কিন্তু হঠাৎ করেই বিকেলে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের দ্বারস্থ হলে, দ্রুততার সঙ্গে সেই রায় স্থগিত করে দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের রায়ের উপর স্থগিতাদেশ জারি হওয়ায় হতাশ চিন্ময়কৃষ্ণের আইনজীবী ও অনুগামীরা। তাঁদের মতে, এটি সংখ্যালঘু অধিকার ও ন্যায়বিচারের পক্ষে এক বড় ধাক্কা। আপাতত নতুন করে শুনানির তারিখ না পাওয়া পর্যন্ত চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে জেলেই থাকতে হবে। ধর্মীয় ও সামাজিক মহলে এই ঘটনায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়াচ্ছে। সংখ্যালঘু অধিকার সংগঠনগুলি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
