আত্মহত্যা
হুমকি, অর্থসঙ্কট, মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে আত্মঘাতী তৃণমূল কাউন্সিলর?
ডিজিটাল ডেস্ক: নদিয়ার (Nadia) হরিণঘাটা (Haringhata) শহরে মৃত্যু হল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এক সক্রিয় নেতার। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হরিণঘাটা পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং জেলা ছাত্রনেতা রাকেশ পাড়ুইয়ের (Rakesh Parui) ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় স্থানীয় তৃণমূল পার্টি অফিস থেকে। এই অকাল মৃত্যুর পেছনে পারিবারিক অশান্তি, আর্থিক সঙ্কট এবং কিছু চক্রের প্রভাব থাকার আশঙ্কা করছেন তাঁর পরিবার।
রাকেশের মা শিবানী পাড়ুই (Shibani Parui) জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে তিনি ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। তখন রাকেশ জানান, তিনি সমস্যার মধ্যে আছেন, পরে ফোন করবেন। এরপর সন্দেহ হওয়ায় রাকেশের বাবা দলীয় কার্যালয়ে যান এবং সেখানেই ছেলের মৃতদেহ দেখতে পান।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সময়ে রাকেশের উপর আর্থিক চাপ ক্রমেই বেড়ে চলেছিল। গাড়ির ব্যবসা সংক্রান্ত বিভিন্ন লেনদেন নিয়ে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। স্থানীয় বিধায়ক তথা বিজেপি নেতা বঙ্কিম ঘোষ (Bankim Ghosh) জানিয়েছেন, ‘‘রাকেশ ঋণের চাপে ছিল, প্রচুর টাকা তুলেছিল। পাওনাদারদের চাপ বাড়ছিল। তবে কী ঘটেছিল তা খতিয়ে দেখা জরুরি।’’
আরও পড়ুনঃ তৃণমূল কাউন্সিলরের রহস্যমৃত্যু, দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ
এদিকে মৃত নেতার পরিবারের অভিযোগ, কিছু দুষ্কৃতী বারবার হুমকি দিচ্ছিল রাকেশকে। এমনকি তাঁকে একটি সন্দেহজনক চক্রের সঙ্গে জোর করে যুক্ত করা হচ্ছিল বলেও দাবি করেছেন তাঁর মা। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
হরিণঘাটা পুরসভার চেয়ারম্যান দেবাশিস চক্রবর্তী (Debashis Chakraborty) বলেন, ‘‘রাকেশ খুব ভাল ছেলে ছিল। এলাকার মানুষের পাশে সবসময় দাঁড়াত। আমরা এই ঘটনায় মর্মাহত।’’
রাকেশের দেহ শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক রিপোর্ট পাওয়ার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ফের উঠছে প্রশ্ন— ঋণের ফাঁস, পারিবারিক অশান্তি না কি সংগঠনের ভিতরের চাপে ভেঙে পড়লেন তরুণ ছাত্রনেতা? তদন্তই দিতে পারে সব প্রশ্নের উত্তর।
