ঝুমুর কালী মায়ের পুজোকে ঘিরে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠলেন ইটাহারবাসী
Connect with us

উত্তর দিনাজপুর

ঝুমুর কালী মায়ের পুজোকে ঘিরে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠলেন ইটাহারবাসী

Dipa Chakraborty

Published

on

নিজস্ব সংবাদদাতা, ইটাহার, ১৫ নভেম্বর :    নিয়ম-নীতি মেনে ইটাহার ব্লকের ঝুমুর কালী মায়ের পুজোকে ঘিরে রাতভর আনন্দ উৎসবে মেতে উঠলেন ইটাহারবাসী। শনিবার রাতে নিয়ম রীতি অনুযায়ী ইটাহার থানার ওসি অভিজিৎ দত্ত মাথায় ডালা নিয়ে ঢাক বাজিয়ে ঝুমুর কালীর মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পাশাপাশি অন্যান্য পুলিশ আধিকারিক, সিভিক ভলেন্টিয়াররা যান মন্দির প্রাঙ্গণে। এরপরই মন্দির প্রাঙ্গণে শুরু হয় পুজো।

উল্লেখ্য, জমিদারি নিয়ম-নীতি মেনে শ্যামা মায়ের পুজোর আয়োজন করে চলেছেন ইটাহারের পোরষা এলাকায় ঠাকুরানীর ঝুমুর কালির বর্তমান ঘোষ বংশধরেরা। উল্লেখ্য তৎকালীন দুর্গাপুরের গোপালপুরের জমিদার ভূপাল চন্দ্র রায়চৌধুরীর একটি হাতি হারিয়ে যায়। জমিদার অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সেই হাতির খোঁজ পাননি। অবশেষে ঝুমুর কালী মায়ের স্বপ্নাদেশে জমিদার জানতে পারেন ইটাহারের পোরষা এলাকার জঙ্গলে রয়েছে তার হাতিটি। পুজো কমিটি উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, গোপালপুরের জমিদারের হাতি হারিয়ে যায়। যার ফলে ঝুমুর কালী মায়ের স্বপ্নাদেশে জমিদার পোরষা এলাকায় তার হাতি খুঁজে পান। কিন্তু জমিদার তার হাতি নিয়ে গেলেও ঝুমুর কালী মায়ের কোন আরাধনা করেননি। ফলে আবারো পরে জমিদার মায়ের স্বপ্নাদেশে পোরশা এলাকার জঙ্গলে আসলে ঠাকুরানী ঝুমুর মায়ের পাথরের ছোট একটি মূর্তি খুঁজে পান। তখন থেকেই পোরষা এলাকার জঙ্গলে মায়ের পুজোর সূচনা করেন জমিদার ভূপাল চন্দ্র রায়। পাশাপাশি মায়ের নামে কিছু ভিটা জমিসহ ছোট একটি পুকুর দান করেন তিনি। তবে জমিদার পূজার সূচনা করলেও পোরশা এলাকার মঙ্গল ঘোষকে এই পুজোর দায়িত্ব দেন। তখন থেকে মঙ্গল ঘোষের বংশধরেরা এই পুজো করে আসছেন। তবে মন্দিরের কোন চালা নেই। মায়ের চালার ওপরে থাকা পাথরের মূর্তিতে মায়ের পুজো করা হয়। মন্দির এর পেছনে থাকা পুকুর থেকে জল ভরে আনা হয় পুজোর ঘটে। প্রাচীন রীতি মেনে ইটাহার থানার ওসি অভিজিৎ দত্ত পুজোর ডালা মাথায় নিয়ে ঢাক বাজিয়ে আসেন মন্দির প্রাঙ্গণে। এরপর শুরু হয় ঝুমুর কালী মায়ের পুজো। এমনকি ঝুমুর মায়ের পুজো শুরু না হলে ইটাহারে কোন কালীপুজো শুরু হয় না। জমিদারি আমল থেকেই তা হয়ে আসছে। পূজা উপলক্ষে কোনরকম চাঁদা নেওয়া হয় না সাধারন মানুষদের কাছ থেকে। পুজোর সমস্ত ব্যয়ভার বহন করেন ঘোষ বংশধরেরা। তবে এবারের পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। সেরকম আলোকসজ্জা বা মণ্ডপসজ্জা না থাকলেও করোনা আবহে সরকারি নিয়ম মেনে পুজো সম্পন্ন হল। মন্দির চত্বরে মাস্ক এবং স্যানিটাইজার এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিয়ম-নীতি মেনে ঝুমুর কালী মায়ের পুজো শেষ হতেই জয়কালী, আনন্দকালি সার্বজনীন কালী পুজো শুরু হয় ইটাহারে।

Continue Reading
Advertisement ads