ভাইরাল খবর
স্কুলের পাঠ্যবই ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সরকারের! ২৭ নয়, ২০২৮ সালে সিলেবাসে আসছে বড় পরিবর্তন
ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী (Modern) করে তুলতে নতুন সিলেবাস কমিটি (Syllabus Committee) কাজ শুরু করেছে। মঙ্গলবার সল্টলেকের বিদ্যাসাগর ভবনে নবগঠিত কমিটির প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ভবিষ্যতের শিক্ষা কাঠামো (Education Framework) নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন স্পষ্ট জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে (Academic Session) বিদ্যমান পাঠ্যবই (Textbook) অপরিবর্তিত থাকবে। শুধুমাত্র বইগুলির পর্যালোচনা (Review) করা হবে। তবে ২০২৮ সাল থেকেই নতুন কারিকুলাম (Curriculum) ও সিলেবাস চালুর লক্ষ্যে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, শিক্ষা দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী, শিক্ষা সচিব বিনোদ কুমার এবং অধ্যাপক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সিলেবাস কমিটির সদস্যরা। বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথাগত রায়ও।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, সময় স্বল্পতার কারণে ২০২৭ সালে নতুন সিলেবাস কার্যকর করা সম্ভব নয়। প্রথা অনুযায়ী আগামী ২ জানুয়ারির ‘বই দিবস’-এর আগেই ছাত্রছাত্রীদের হাতে নতুন শিক্ষাবর্ষের বই তুলে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ২০২৮ সালের জন্য প্রস্তুত হওয়া নতুন কারিকুলামের খসড়া (Draft) প্রকাশ করে রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এবং শিক্ষাবিদদের মতামত নেওয়া হবে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ (NEP 2020)-এর আলোকে সেমিস্টার (Semester) পদ্ধতি, ‘পাস-ফেল’ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তখন বিবেচিত হবে।
পাঠ্যবইয়ে সিঙ্গুর আন্দোলন বা বেচারাম মান্নার মতো রাজনৈতিক ঘটনাবলি থাকবে কি না, সেই প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাঠ্যক্রমে কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত থাকবে না। বিজ্ঞানমনস্কতা (Scientific Temper), ভীতিমুক্ত শিক্ষা পরিবেশ এবং শিক্ষাবিদদের সুপারিশের ভিত্তিতেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। একইভাবে ‘রামধনু’ শব্দের ব্যবহার বা ভাষা সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়েও অযথা উদ্বেগের কারণ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিন তথাগত রায়ও মত দেন যে, পাঠ্যপুস্তক সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক হওয়া উচিত। পাশাপাশি উপেক্ষিত মনীষীদের অবদান এবং নিরপেক্ষ ইতিহাস নতুন সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও তিনি দেন।
