জঙ্গি হামলার পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিলেন শশী থারুর
Connect with us

অপারেশন সিঁদুর

জঙ্গি হামলার পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিলেন শশী থারুর

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ নিউ ইয়র্কে পহেলগাম হামলার প্রেক্ষিতে শশী থারুরের (Shashi Tharoor) আন্তর্জাতিক স্তরে বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার আহ্বান পহেলগামের ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর ভারতের পরিকল্পিত ও সুনিপুণ প্রত্যাঘাতকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরেছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর।

শনিবার নিউ ইয়র্কে ভারতীয় কনস্যুলেটে তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদ আর কোনও দেশের সীমাবদ্ধ সমস্যা নয়, এটি বিশ্বব্যাপী সংকট। সবাইকে মিলিত হয়ে এর বিরুদ্ধে লড়তে হবে।” শুরুতেই সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল নিউ ইয়র্কের ৯/১১ মেমোরিয়ালে গিয়েছিল। সেখানে থারুর বলেন, “এই মঞ্চে এসে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এমন সময়ে ভারতে পহেলগামে এক ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা দুই দেশের জন্যই বড় ক্ষতি। এই হামলা স্পষ্টভাবেই সাম্প্রদায়িক বিভাজন ছড়ানোর পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল।”

হামলার বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, “হামলাকারীরা ধর্ম যাচাই করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু হত্যা করেছে। অধিকাংশ নিহত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। তবে এর জবাবে কাশ্মীর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ একত্রিত হয়ে ঐক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।”

আরও পড়ুনঃ অনুষ্কার সঙ্গে ১২ বছরের সম্পর্ক? প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ছেলের ফেসবুক পোষ্ট নিয়ে জল্পনা

Advertisement
ads

থারুর আরও বলেন, “হামলার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF) দায় স্বীকার করে, যা ‘লস্কর-ই-তইবা’র একটি মোর্চা এবং জাতিসংঘ ও আমেরিকার সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত সংগঠন। ভারত আগে থেকেই এই তথ্য জাতিসংঘে জানিয়েছিল।” তবে তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তান হামলার দায় অস্বীকার করেছে এবং চিনের প্রভাব নিয়ে জাতিসংঘের খসড়া বিবৃতি থেকে TRF-এর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

ভারতের কড়া ও সূক্ষ্ম প্রতিক্রিয়ার প্রশংসা করে থারুর বলেন, “আমি সরকারে নেই, কিন্তু বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বলছি, সময় এসেছে স্মার্ট ও কঠোর জবাব দেওয়ার। ভারত ঠিক তাই করেছে।” তিনি জানান, ভারত ৯টি নির্দিষ্ট সন্ত্রাস ঘাঁটি ও লঞ্চপ্যাডে আক্রমণ চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে লস্কর-ই-তইবার মুরিদকির ঘাঁটি এবং জইশ-ই-মহম্মদের বাহাওয়ালপুর বেস, যেটি সাংবাদিক ড্যানিয়েল পার্ল হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিল।

থারুর স্পষ্ট করেছেন, “ভারতের বার্তা একমত—সন্ত্রাসের জবাব দেয়া হবে, কিন্তু যুদ্ধের পথে যাওয়া হবে না। এটি প্রতিশোধমূলক কিন্তু নিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ।”এই সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল বিভিন্ন দেশের সরকার প্রতিনিধি, বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞ এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বৈঠক করবে। থারুর জানান, “আমরা চাই বিশ্ব ভারতকে সঠিকভাবে বুঝুক—সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারত দৃঢ় ও বিভ্রান্তিহীন।”

দলে রয়েছেন শশী থারুর (কংগ্রেস), শম্ভবী চৌধুরী (লোক জনশক্তি পার্টি), সরফরাজ আহমেদ (ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা), জি এম হরীশ বালায়াগি (তেলুগু দেশম পার্টি), শশাঙ্ক মণি ত্রিপাঠী, তেজস্বী সূর্য, ভূবনেশ্বর কে. লতা (সবাই বিজেপি), মল্লিকার্জুন দেবদা (শিব সেনা) এবং আমেরিকার প্রাক্তন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত তরনজিৎ সিং সন্দু।

Advertisement
ads