বাজার দর
এসবিআই-তে ফের কমল এফডি-র সুদ, টানা দ্বিতীয় মাসে ধাক্কা সঞ্চয়কারীদের
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারতের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI) ফের একবার ফিক্সড ডিপোজিটের (FD) সুদের হার কমিয়ে দিল। নতুন সংশোধিত সুদের হার কার্যকর হয়েছে ১৬ মে, ২০২৫ থেকে। ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, ৩ কোটি টাকার কম মূল্যের রিটেল ডোমেস্টিক টার্ম ডিপোজিটের (Retail Domestic Term Deposit) ক্ষেত্রেই এই হার প্রযোজ্য হবে।
এই নিয়ে পরপর দ্বিতীয় মাসে সুদ কমাল এসবিআই। এপ্রিলে সুদের হার কমেছিল ১০ থেকে ২৫ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত, আর এবার সর্বোচ্চ ২০ বেসিস পয়েন্ট ছাঁটাই করা হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) সাম্প্রতিক আর্থিক নীতির সঙ্গেই সামঞ্জস্য রেখে এই পদক্ষেপ, জানিয়েছে এসবিআই।
কোন মেয়াদে কত সুদ?
-
২ বছর থেকে ৩ বছরের কম: ৬.৭০% (বর্তমানে সর্বোচ্চ সুদ)
-
৩ বছর থেকে ৫ বছরের কম: ৬.৫৫%
-
১ বছর থেকে ২ বছরের কম: ৬.৫০%
-
৫ বছর থেকে ১০ বছর: ৬.৩০%
-
অমৃত বৃৃষ্টি স্কিম (Amrit Kalash – ৪৪৪ দিন): ৭.০৫% থেকে কমে ৬.৮৫%
প্রবীণদের জন্য সুবিধা অপরিবর্তিত
প্রবীণ নাগরিক (Senior Citizens) ও অতিপ্রবীণ নাগরিকদের (Super Senior Citizens) জন্য অতিরিক্ত সুদপ্রাপ্তির নিয়মে কোনও পরিবর্তন হয়নি। তারা এখনও অতিরিক্ত সুদের হারের সুবিধা পাবেন, যেমনটি আগেও ছিল।
কেন কমল সুদ?
মূলত রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রেপো রেট হ্রাসই এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ। এপ্রিল ২০২৫-এ আরবিআই রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনে। এই নীতিগত পরিবর্তনের লক্ষ্য অর্থনীতিতে গতি আনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে বাড়তি চাপ এবং বৈদেশিক বিনিময়ে ভারসাম্য রক্ষার কৌশল হিসেবেও এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কী বলছেন বিশ্লেষকরা?
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেপো রেট হ্রাস ও তার প্রভাবে সুদের হার কমিয়ে ব্যাঙ্কগুলো সঞ্চয়ের বদলে ঋণ বিতরণে বেশি উৎসাহী হচ্ছে। এতে বিনিয়োগ ও বাজারে নগদের প্রবাহ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্লুমবার্গ ও বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই কৌশল মূলত বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
ভোগান্তির মুখে সঞ্চয় নির্ভর সাধারণ মানুষ
তবে এই সিদ্ধান্তে সমস্যায় পড়ছেন সেই সব মানুষ, যাঁরা ফিক্সড ডিপোজিটের সুদের আয়েই জীবন চালান। প্রবীণ নাগরিকদের অনেকেই স্থায়ী আমানতের মাধ্যমে আর্থিক নিরাপত্তা গড়ে তুলেছিলেন, সেই জায়গায় সুদের হারে ধারাবাহিক ছাঁটাই তাঁদের উদ্বেগে ফেলেছে।
