এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এমএস স্বামীনাথনের শতবর্ষ উদ্যাপন অনুষ্ঠানে (M S Swaminathan Centenary Conference) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে দেশের কৃষক, মৎস্যজীবী ও দুগ্ধচাষীদের স্বার্থই সবার আগে। ভারত কখনও তাদের স্বার্থের সঙ্গে আপস করবে না। এর জন্য যদি মূল্য দিতে হয়, আমরা প্রস্তুত।”
প্রসঙ্গত, আমেরিকার দাবি—ভারত তাদের কৃষিপণ্য ও দুগ্ধজাত পণ্য কম দামে ভারতের বাজারে বিক্রি করতে দিক। কিন্তু ভারতের আপত্তি মূলত দুটি জায়গায়—প্রথমত, আমেরিকার দুগ্ধজাত পণ্য “animal-based” বা আমিষ বলে বিবেচিত, কারণ সেখানকার গবাদিপশুদের মাংসজাত খাদ্য খাওয়ানো হয় উৎপাদন বাড়াতে। দ্বিতীয়ত, আমেরিকার জেনেটিকালি মোডিফায়েড (Genetically Modified) কৃষিপণ্য ভারতে বিক্রি করতে দিতে নারাজ নয়াদিল্লি।
আরও পড়ুনঃ ট্রাম্পের শুল্কে রাজনৈতিক লাভ? মূল্য চোকাচ্ছেন আমেরিকার নাগরিকরাই
ভারতের দাবি, এইসব পণ্য দেশের কৃষি ও খাদ্য সুরক্ষার পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে। পাশাপাশি দেশীয় শিল্প, বিশেষত শ্রমঘন ক্ষেত্রগুলিকে রক্ষা করাই সরকারের অগ্রাধিকার। এইসব কারণেই নয়াদিল্লি কোনও রকম শুল্কছাড় দিতে রাজি নয়।
অন্যদিকে ভারত চাইছে, তার তৈরি বস্ত্র, রত্ন ও অলঙ্কার, চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক, রাসায়নিক, চিংড়ি, আঙ্গুর, তৈলবীজ ও কলার উপর আমেরিকা যেন শুল্ক ছাড় দেয়। এছাড়া ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং অটোমোবাইলের ক্ষেত্রেও শুল্ক কমানোর দাবি তুলেছে ভারত।
সূত্রের খবর, দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আগামী ২৫ অগস্ট ফের বৈঠক হতে চলেছে দিল্লিতে। এই নিয়ে ষষ্ঠ দফার আলোচনা হবে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে। যদিও গত পাঁচ দফা বৈঠকেও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রসঙ্গত, কয়েক বছর আগেই ভারত ও আমেরিকা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের পারস্পরিক বাণিজ্য ৫০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া হবে। তবে বর্তমান অবস্থা দেখে সেই লক্ষ্য কতটা বাস্তব হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—ভারতের বাজারে কৃষিপণ্য ও দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রি করতে আমেরিকার চাপ, আর তার জবাবে ভারতের দৃঢ় অবস্থান। মোদীর কণ্ঠে যে বার্তা শোনা গেল, তাতে স্পষ্ট—দেশীয় কৃষকদের স্বার্থে কোনও আপস নয়।