উত্তরবঙ্গ
ভারী বৃষ্টির রাতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা ও ছেলের করুণ মৃত্যু
ঘরের সুইচ বোর্ডে হাত দিয়ে তড়িদাহত পক্ষাঘাতগ্রস্ত মা, তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ২৭ বছর বয়সি ছোট ছেলেও। বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে দেরিতে আসার অভিযোগ বাসিন্দাদের।
শিলিগুড়ির ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের ভবসিন্ধু কলোনিতে ঘটে গেল একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক দুর্ঘটনা (accident)। বুধবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ প্রবল ভারী বৃষ্টির সময়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট (electrocuted) হয়ে প্রাণ হারালেন মা ও ছেলে। মৃতদের নাম প্রমীলা রায় (৫০) এবং তাঁর ছোট ছেলে রাজু রায় (২৭)।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রমীলা রায় দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত (paralyzed) ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় শিলিগুড়িতে যখন মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল, তখন তিনি অসাবধানতাবশত বাড়ির একটি সুইচ বোর্ডে (switch board) হাত দিয়ে ফেলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তড়িদাহত হন। মায়ের এই অবস্থা দেখে তাঁকে বাঁচাতে ছুটে আসেন ছোট ছেলে রাজু। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, মাকে স্পর্শ করতেই তিনিও তীব্রভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরিবারের বাকি সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং বিদ্যুৎ দপ্তরে (electricity department) খবর দেন।
প্রতিবেশীদের অভিযোগ, খবর দেওয়ার দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা এলাকায় পৌঁছান। এরপর গোটা এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন (power cut) করে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে (district hospital) নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা (declared dead) করেন। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীদের দাবি, বিদ্যুৎ কর্মীরা দ্রুত এলে হয়তো তাঁদের বাঁচানো সম্ভব হতো। পুলিশ ইতিপূর্বেই এই ঘটনার তদন্ত (investigation) শুরু করেছে। প্রমীলা রায়ের স্বামী ও বড় ছেলে বর্তমানে শোকস্তব্ধ।
