দেশের খবর
মাওবাদী মুক্ত ভারতের লক্ষ্যে বড় সাফল্য! ১ কোটির মাথার দামওয়ালা মাওবাদী নেতা গ্রেপ্তার
ডিজিটাল ডেস্কঃ দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে ঝাড়খণ্ড (Jharkhand) পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন সিপিআই (মাওবাদী) (CPI-Maoist)-এর শীর্ষ নেতা মিসির বেসরা। মঙ্গলবার রাতে ধানবাদ (Dhanbad) জেলার বারওয়াড্ডা থানা এলাকার মানিয়াডিহি থেকে যৌথ অভিযানে (Joint Operation) তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর সঙ্গে আরও দুই মাওবাদী (Maoist) কমান্ডারকেও আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। মিসির বেসরার মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে (Intelligence Input) খবর পাওয়ার পর সিআরপিএফ (CRPF), গিরিডি ও ধানবাদ পুলিশ পারশনাথ (Parasnath) পাহাড় সংলগ্ন জঙ্গলে চিরুনি তল্লাশি (Search Operation) চালায়। রাত প্রায় ৯টা নাগাদ ধানবাদ-গিরিডি সীমান্তের টুন্ডি-মান্ডিয়ার জঙ্গল থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় তাঁকে এবং তাঁর দুই সহযোগীকে ঘিরে ফেলে গ্রেফতার করা হয়।
৬৬ বছর বয়সি মিসির বেসরা ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার হারলাডিহির বাসিন্দা। পুলিশের দাবি, তিনি মাওবাদী সংগঠনের পলিটব্যুরোর (Politburo) শেষ জীবিত সদস্য। সংগঠনের বাকি সদস্যরা হয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছেন, নয়তো বিভিন্ন এনকাউন্টারে (Encounter) নিহত হয়েছেন। সংগঠনের ভেতরে তিনি ‘ভাস্কর’ ও ‘সাগর’ নামেও পরিচিত ছিলেন এবং তাত্ত্বিক নেতা (Ideologue) ও অপারেশনাল কম্যান্ডার (Operational Commander) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।
এর আগে ২০০৭ সালে ঝাড়খণ্ড থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে ২০০৯ সালে বিহারের লখিসরাই জেলা আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে নিয়ে যাওয়ার সময় মাওবাদীদের হামলার সুযোগে পুলিশ হেফাজত (Police Custody) থেকে পালিয়ে যান। এরপর প্রায় ১৭ বছর তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।
মিসির বেসরার গ্রেফতারকে মাওবাদী দমনে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে নিরাপত্তা মহল। তদন্তকারীদের আশা, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ (Interrogation) করে মাওবাদী সংগঠনের সক্রিয় নেটওয়ার্ক, আর্থিক উৎস, অস্ত্রভাণ্ডার এবং ভবিষ্যৎ কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।
এদিকে, মিসিরের ছেলে সিদ্ধার্থ জানিয়েছেন, বুধবার সকাল পর্যন্ত পুলিশ বা সিআরপিএফের পক্ষ থেকে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তিনি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বাবার গ্রেফতারের খবর জানতে পারেন। সিদ্ধার্থ আরও জানান, গত ২০ বছর তিনি বাবাকে দেখেননি। তবে প্রায় ১৫ দিন আগে পুলিশ তাঁদের বাড়িতে এসে বাবাকে আত্মসমর্পণের অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি লেখার কথা বলেছিল। দীর্ঘদিন পর বাবা জীবিত রয়েছেন জানতে পেরে তিনি খুশি বলেও জানিয়েছেন।
