ভাইরাল খবর
‘বিরোধী নয়, শরিকদেরও ডোবাবে’—কেন্দ্রের ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে মহুয়া সোচ্চার
ডিজিটাল ডেস্কঃ কেন্দ্রীয় সরকার বন্দি মন্ত্রী সরানোর নিয়ে লোকসভায় হাজির হতে চলেছে। এই ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। বিলের লক্ষ্য, কোনও নেতা-মন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে টানা ৩০ দিন পুলিশ হেফাজতে থাকলে তাঁকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদত্যাগ করতে হবে।
বিরোধীরা ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে কেন্দ্রকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, “রাজ্য সরকারকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।” একই সঙ্গে তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) এই বিলকে সংবিধান ও দেশের আইন অমান্য করার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “যে কোনও জনপ্রতিনিধি যদি সাত বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত হন, আদালতই দোষী বা নিরাপরাধ প্রমাণ করতে পারে।
কিন্তু এই বিলের মাধ্যমে কেন্দ্র ৩০ দিনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীকে সরাতে পারবে।” মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) আরও একটি বিষয় তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এই বিল কেবল বিরোধীদের অধিকার হরণ করছে না, বিজেপির শরিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তিনি বলেন, “এটি কেবল বিরোধী পক্ষের জন্য নয়, বিজেপির মধ্যে যাঁরা শরিক আছেন, তাঁরা যদি মোদী-অমিত শাহের নির্দেশ না মানেন, তবে তাদেরকেও পদ থেকে সরানো হতে পারে।”
মহুয়া আরও বলেন, আইন এবং বিচারব্যবস্থাকে এভাবে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তিনি সতেন্দ্র জৈন (Satendra Jain)-এর উদাহরণ টেনে বলেন, “চার বছর জেলে থাকা সত্ত্বেও প্রমাণ না থাকায় বিচার হয়নি।” মহুয়া অভিযোগ করেন, “এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরের কার্যকারিতা মাত্র ১ শতাংশ। কেন্দ্রীয় সংস্থা যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারে, কিন্তু শতকের মধ্যে মাত্র একজন দোষী।”
বিলে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী, কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বা রাজ্যের মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে গুরুতর অপরাধে গ্রেফতার হলে এই আইন প্রযোজ্য হবে। ৩০ দিনের পুলিশ হেফাজতের পরে পদত্যাগ বাধ্যতামূলক। কেন্দ্রীয় সরকার আশা করছে, এই আইন প্রয়োগে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় থাকবে, তবে বিরোধীরা এটিকে রাজনৈতিক ও সংবিধানগত সমস্যা হিসেবে দেখছেন।
সংক্ষিপ্তভাবে, নতুন বিলের আওতায় কোনও সরকারী পদে থাকা নেতা বা মন্ত্রীকে গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হলে স্বয়ংক্রিয় পদত্যাগ নিশ্চিত করা হবে, যা দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এক নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করতে পারে।


