রায়গঞ্জ
ইয়াস বিধ্বস্ত সুন্দরবন অঞ্চলে লবনাক্ত জমিতে চাষযোগ্য সাবেকি ধানের বীজ চাষীদের বিনামুল্যে প্রদানে উদ্দ্যোগ নিল ফিয়াম।
রায়গঞ্জ , ০৬ জুন : ইয়াস বিধ্বস্ত সুন্দরবন অঞ্চলে লবনাক্ত জমিতে চাষযোগ্য সাবেকি ধানের বীজ চাষীদের বিনামুল্যে প্রদানে উদ্দ্যোগ নিলেন উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের ফিয়ামের সদস্যরা। চাষের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া সাবেক ধান চাষ করে আবারো ওই এলাকার চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাড়াতে পারবেন বলে আশাবাদী ফিয়াম।
ধানচাষে বিবর্তনের কারনে হারিয়ে যাওয়া সাবেকি ধানের বীজ সংরক্ষন করে রেখে ইয়াসের কারনে সমুদ্র উপকূলবর্তী জমিগুলির উর্বরাশক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে পুনরায় লবনাক্ত জমিতে চাষযোগ্য ধানের বীজ বপন করে ওই এলাকার চাষীরা আবারো ধানের চাষ শুরু করতে পারবেন এমনটাই দাবী ফিয়ামের। ইতিমধ্যেই সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যম দিয়ে ইচ্ছুক চাষীদের সাথে যোগাযোগ করে ধানের বীজ প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে ফিয়ামের তরফে জানানো হয়েছে।একটা সময় বাঁধ না থাকার কারনে পশ্চিমবঙ্গের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার কৃষি জমিগুলি জোয়ার এমনকি বন্যার কারনে সামুদ্রিক লবনাক্ত জলে প্লাবিত হত। কিন্তু তাতে ওই এলাকার চাষাবাদে খুব একটা প্রভাব পড়ত না। এর কারন হিসেবে ফিয়ামের দাবী, প্রত্যেক এলাকারই প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট অনুযায়ী ধান বা অন্যান্ন ফসলের চাষ হয়ে থাকে, যাতে নির্দিষ্ট এলাকার মাটি, জল, আবহাওয়ায় পরিপুষ্ট হতে পারে তেমন ফসলেরই চাষ হোত। তবে তাতে উৎপাদন খুব একটা লাভজনক হতনা। যে কারনে পরবর্তীতে বাঁধ দিয়ে নোনা জলের জমিতে প্রবেশ আটকে দিয়ে সাবেকি ধানের চাষ বন্ধ রেখে বেশি উৎপাদনশীল জেনেটিক পদ্ধতিতে তৈরি ধানের চাষে আগ্রহ বাড়ে সুন্দরবন ও উপকূলবর্তী এলাকার চাষীদের। আর এতেই চাষের বিবর্তনের কারনে হারিয়ে যাওয়া সাবেকি ধানের বীজও এখন নেই চাষীদের হাতে। কিন্তু ইয়াসের প্রভাবে এবার বাঁধ উপচে নোনা জল চাষের জমিতে ঢুকে পড়ায় ওই এলাকার চাষের জমি গতানুগতিক চাষের জন্য উর্ব্বরাশক্তি হারিয়েছে। এই জমিতে আগামী প্রায় তিন বছর জেনেটিক পদ্ধতিতে তৈরি ব্যাপক উৎপাদনশীল ধান বা অন্যান্ন ফসলের চাষ সম্ভব নয়। এতে চাষীদের চরম আর্থিক সমস্যায় পড়তে হতে পারে। আর এই বিষয়টিতেই লক্ষ্য রেখে আগামীতে এই নোনা জলে প্লাবিত জমি গুলোতে যাতে সেই পুরোনো সাবেকি ধান চাষ করেই চাষীরা আবার স্বনির্ভর হতে পারে সেজন্যেই সুন্দরবন ও উপকুলীয় এলাকায় চাষীদের বিনামুল্যে ধানের বীজ প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ফসলের বীজ গবেষনায় জড়িত ফিয়ামের সদস্যদের দাবী। ইতিমধ্যেই কৃষি দফতর এবং কোলকাতা সহ উপকুলীয় জেলাগুলির বেশকিছু বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত চাষী এবং তাদের জমির তালিকার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি এই সাবেক ধান চাষে ইচ্ছুক চাষীদের তালিকা অনুযায়ী কৃষি দফতরের মাধ্যমে তাদের কাছে ধানের বীজ প্রেরণ করা হবে বলে ফিয়ামের তরফে জানানো হয়েছে।
