দুর্ঘটনা
‘সব শেষ ভেবেছিলাম’—জীবিত যাত্রীর ভয়াল অভিজ্ঞতা
ডিজিটাল ডেস্ক: মৃত্যু যেন হাত ছুঁয়ে ফিরে গেল। আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায় একমাত্র বেঁচে ফেরা যাত্রী, ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক বিশ্বাসকুমার রমেশ (Vishwaskumar Ramesh) জানালেন তাঁর অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরার গল্প। বৃহস্পতিবার আহমেদাবাদের সরদার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৬৫ জন।
৩৮ বছর বয়সি রমেশ (Ramesh) বিমানের বাঁ দিকে জরুরি নির্গমন পথের ঠিক পাশে, ১১এ (11A) সিটে বসে ছিলেন। দুর্ঘটনার পরে আহমেদাবাদ সিভিল হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছে তিনি বলেন, “উড্ডয়নের পর মাঝ আকাশে হঠাৎ বিমানটি ভেঙে যায়। আমার আসনটি বিমান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ধ্বংসস্তূপের বাইরে ছিটকে পড়ে। সে কারণেই আমি আগুনের গ্রাস থেকে বেঁচে যাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমি নিজে থেকে লাফ দিইনি। আসনটিতে সিটবেল্ট বাঁধা অবস্থাতেই পুরো সিটটি বিচ্ছিন্ন হয়ে বাইরে ছিটকে যায়।” এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে রক্তাক্ত ও আহত রমেশকে (Ramesh) ধ্বংসাবশেষের পাশ দিয়ে অ্যাম্বুল্যান্সের দিকে হাঁটতে দেখা যায়। সেসময় উপস্থিত মানুষজন তাঁকে বিমানের পরিস্থিতি ও অন্য যাত্রীদের সম্পর্কে প্রশ্ন করছিলেন।
আরও পড়ুনঃ ২৪২ জনের মৃত্যুর মাঝে অলৌকিক জীবন! বিশ্বাসকুমারকে দেখতে হাসপাতালে হাজির মোদী
বিমানটি ছিল এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার (Boeing 787-8 Dreamliner), যার গন্তব্য ছিল লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দর (Gatwick Airport)। মোট ২৩০ জন যাত্রী এবং ১২ জন ক্রু সদস্য ছিলেন ওই ফ্লাইটে। জানা গিয়েছে, বিমানটি আহমেদাবাদের বিজে মেডিক্যাল কলেজের (BJ Medical College) হোস্টেল ভবনে ধাক্কা মারে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিমানটি আকাশে উড়তে শুরু করার মাত্র ৬০০ থেকে ৮০০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছনোর পর আচমকা নীচে নামতে শুরু করে এবং তীব্র বিস্ফোরণে জ্বলে ওঠে। বিস্ফোরণের শব্দ এবং আগুনের লেলিহান শিখা বহু দূর থেকে দেখা যায়। দুর্ঘটনার অভিঘাতে বিমানটির ল্যান্ডিং গিয়ার, ফুসেলাজ, এবং টেল অংশ ছিটকে পড়ে মেডিক্যাল কলেজের ভেতর। হাসপাতালের বেশ কয়েকটি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবং সেখানে থাকা জুনিয়র ডাক্তার রাও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, দুপুর ১টা ৩৯ মিনিটে বিমানের পাইলট ‘মেডে’ (Mayday) সংকেত পাঠান, যা বিমানে জরুরি বিপদের ইঙ্গিত দেয়। তবে সংকেত পাঠানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে যায়।
বিমানটিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ১৬৯ জন ছিলেন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ, সাতজন পর্তুগিজ এবং একজন কানাডীয়। ক্রুদের মধ্যে দু’জন ছিলেন পাইলট এবং ১০ জন কেবিন ক্রু। ফ্লাইটে প্রাক্তন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি (Vijay Rupani)-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন, কিন্তু তাঁদের কেউই প্রাণে বাঁচতে পারেননি।
বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ব্ল্যাক বক্স (Black Box), অর্থাৎ ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডার খোঁজার কাজ চলছে। এগুলি উদ্ধার হলেই জানা যেতে পারে শেষ মুহূর্তে ঠিক কী ঘটেছিল।
বিশ্বাসকুমার রমেশের (Vishwaskumar Ramesh) অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরার ঘটনাটি ইতিমধ্যেই সারা দেশে আলোড়ন তুলেছে। তাঁর অভিজ্ঞতা যেন অন্ধকারের মধ্যেও জীবনের নতুন আশার বার্তা।
