ভাইরাল খবর
মালদার মাটি থেকে দিল্লির দপ্তরে, UPSC পেরিয়ে অভিজিৎ আজ কেন্দ্রীয় আধিকারিক
ডিজিটাল ডেস্কঃ সরকারি চাকরি মানেই অনেকের কাছে জীবনের লক্ষ্য পূরণ। কিন্তু মালদার এক তরুণ সেই ধারণা বদলে দিয়েছেন নিজ গাঁথা উদাহরণে। নাম অভিজিৎ চৌধুরী (Abhijit Choudhury)। পোস্টমাস্টার, কোর্ট ক্লার্ক, রেল বিভাগের আধিকারিক—এই সবকটি সরকারি চাকরি পেরিয়ে অবশেষে জায়গা করে নিয়েছেন ইউপিএসসি-র Indian Information Service (IIS)-এ, দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কেন্দ্রীয় পদে। এতগুলি চাকরি পাওয়ার পরও থেমে না গিয়ে দেশ ও সমাজসেবার বৃহত্তর সুযোগের দিকেই এগিয়ে গিয়েছেন তিনি।
অভিজিতের যাত্রা শুরু হয় মালদার সাতটারী গ্রামে। স্কুলজীবনে নানা প্রতিকূলতা, বাবার ক্যানসার, পড়াশোনার ছেদ—সব কিছু জয় করে উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যান। বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে পড়াশোনার মাঝপথে বাবার চিকিৎসার জন্য চলে যান মুম্বই। পরে ফিরে এসে ‘Mass Communication & Journalism’-এ স্নাতক সম্পন্ন করেন। এর মধ্যেই বাবাকে হারান, বাড়ির দায়িত্ব এসে পড়ে কাঁধে।
আরও পড়ুনঃ শ্রাবণ মাসে মাংস নয়! কড়াকড়ি ধর্মীয় আবেগে, প্রশ্নে প্রশাসনের ভূমিকা
তবে সেই দুঃসময়ের মধ্যেই তিনি গ্রামীণ ডাকসেবক হিসেবে পোস্টমাস্টারের চাকরি পান। পাশাপাশি সাংবাদিকতা শুরু করেন একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে। তাঁর লক্ষ্য ছিল WBCS, তাই সংবাদ জগতে কাজ করে লেখনশৈলী ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সে দক্ষতা অর্জন করেন। পরে জেলা আদালতে লোয়ার ডিভিশন ক্লার্কের চাকরিতে যোগ দেন।
তবে সেখানেই থেমে থাকেননি। পড়াশোনার ফাঁকে সাংবাদিকতার পাশাপাশি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে PhD গবেষণার কাজও শুরু করেন ‘Folk Media and Digital Convergence’ বিষয়কে কেন্দ্র করে। এরপর ২০২৩ সালে রেলে সিনিয়র পাবলিসিটি ইনস্পেক্টর পদে নির্বাচিত হন এবং বর্তমানে সেই পদে কর্মরত।
এবার তাঁর সব থেকে বড় সাফল্য—UPSC মাধ্যমে Indian Information Service (Senior Grade)-এ নির্বাচিত হওয়া। গোটা দেশ থেকে ১৩০ জন ইন্টারভিউর জন্য ডাক পান, তার মধ্যে মাত্র ১৭ জন নির্বাচিত হন, আর বাংলা ভাষার প্রতিনিধি হিসেবে একমাত্র অভিজিৎ চৌধুরীই জায়গা করে নেন। সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় তিনি নবম।
IIS-এর এই পদের জন্য তাঁকে কোনও কোচিং নিতে হয়নি। সাংবাদিকতা ও রেল বিভাগের অভিজ্ঞতাই তাঁকে সাহায্য করেছে বলে জানিয়েছেন অভিজিৎ। ইন্টারভিউতে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল মাস কমিউনিকেশন, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স, ফ্যাক্ট চেকিং, মিসইনফরমেশন ইত্যাদি বিষয়ে। প্রশ্ন ছিল situation-based, কিন্তু আত্মবিশ্বাস আর বাস্তব অভিজ্ঞতায় তিনি সফলভাবে উত্তর দেন।
নতুন প্রজন্মের জন্য অভিজিতের বার্তা স্পষ্ট— “Apply করতে হবে, খিদে থাকতে হবে। এখন সমস্ত স্টাডি মেটেরিয়াল অনলাইনেই মেলে। চেষ্টা না করলে ডাক কখনও আসবে না।”
তাঁর এই উত্থান দেখিয়ে দেয়, স্বপ্ন বড় হলে, ইচ্ছাশক্তি থাকলে—সরকারি চাকরির মধ্যেও নতুন দিগন্ত খোলা যায়। অভিজিতের কাহিনি শুধু অনুপ্রেরণার নয়, এক সংগ্রামী জীবনচক্রের গর্বিত দলিল