Connect with us

রাজনীতি

‘জয় মা কালী’ বলে শুরু, তৃণমূলের কটাক্ষ—এবার মোদী যাবেন ডিটেনশন শিবিরে?

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ দুর্গাপুরের মঞ্চ থেকে বাংলায় ভাষণ দিয়ে রাজনৈতিক চমক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। মা দুর্গা ও মা কালীর নাম করে বক্তব্য শুরু করলেন ‘খাঁটি বাঙালি’র ভঙ্গিতে। বললেন, “বড়রা আমার প্রণাম নেবেন, ছোটরা ভালোবাসা। জয় মা কালী, জয় মা দুর্গা।” রামনাম বা ‘হিন্দু কার্ড’কে আড়াল করে বাংলা আবেগে ভর করেই ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করলেন তিনি। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বঙ্গ বিজেপির বঙ্গীয়করণ যে শুরু হয়ে গেছে, এই ভাষণ যেন তারই অকাট্য প্রমাণ। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ ঘিরে বিতর্কও ছড়িয়েছে। আর সেই সুরেই জোরালো কটাক্ষ ছুড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

তৃণমূলের তরফে এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্টে লেখা হয়েছে, “প্রধানমন্ত্রী আপনি বাংলায় বক্তৃতা শুরু করেছেন তা খুব ভালো। কিন্তু আপনাকেও ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে না তো?”— এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, সাম্প্রতিক অতীতে দেশের নানা প্রান্তে বাংলা ভাষাভাষী শ্রমিকদের ‘বাংলা’ বলার অপরাধে হেনস্তা, এমনকি ‘বাংলাদেশি’ অপবাদে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর একাধিক অভিযোগ উঠেছে। কোথাও তাঁদের আটক করে পুলিশ তুলে দিচ্ছে, কোথাও রোহিঙ্গা বা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বলে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে এমন বহু ঘটনার ভিডিও ও তথ্যপ্রমাণ।

Advertisement
ads

এই প্রেক্ষিতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্য প্রতিবাদে নামেন। তিনি বলেন, “বাংলার শ্রমিকদের অপমান সহ্য করব না। বাংলা বলা কি অপরাধ? বাংলা বললেই কেউ বাংলাদেশি হয়ে যায়?” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, যদি সাহস থাকে, তাহলে তাঁকেও আটক করুক কেন্দ্র। প্রয়োজনে সারা দেশে আন্দোলনের ডাকও দেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

তৃণমূলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নিজে একদিকে বাংলায় আবেগ দেখাচ্ছেন, আর অন্যদিকে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের উপর আক্রমণ চলছে। এটিকে তৃণমূল নেতারা বলছেন ‘political double standard’। শুধু তাই নয়, বাংলায় বক্তৃতা দিলেও মোদির “ভাঙা ভাঙা উচ্চারণ” নিয়ে কটাক্ষও ছড়িয়েছে রাজনৈতিক শিবিরে।

Advertisement
ads

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ বিধানসভার আগে বাংলায় মাটি শক্ত করতে চায় বিজেপি। তাই বাংলায় ভাষণ, মায়ের নাম জপ, এমনকি মঞ্চে শুদ্ধ বাংলায় স্লোগান—সবই পরিকল্পিত। কিন্তু একইসঙ্গে বিজেপিকে এই প্রশ্নেরও মুখে পড়তে হচ্ছে—যেখানে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় কথা বলতে পারেন, সেখানে বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য সাধারণ মানুষকে কেন হেনস্তা হতে হচ্ছে?

সব মিলিয়ে দুর্গাপুরের সভা থেকে মোদির বাংলা ভাষণ যেমন নির্বাচনী কৌশলের ইঙ্গিত দিল, তেমনই নতুন করে বিতর্কও উসকে দিল ‘বাংলা বনাম বাঙালি-বিদ্বেষ’-এর রাজনীতিকে কেন্দ্র করে।

Continue Reading
Advertisement