দেশের খবর
ইরান যুদ্ধের আবহে দেশে এলপিজি সংকটের শঙ্কা: জয়শঙ্কর-পুরীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী
ডিজিটাল ডেস্কঃ ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রভাবে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা (Energy Security) বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে। বিশেষ করে লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) বা রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় মঙ্গলবার পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লক্ষ্য একটাই—বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতার আঁচ যাতে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে না পৌঁছায়।
বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) কার্যত অবরুদ্ধ। ভারতের বার্ষিক এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬২ শতাংশই আমদানির (Import) ওপর নির্ভরশীল, যার সিংহভাগ আসে সৌদি আরবসহ অন্যান্য আরব দেশগুলি থেকে। এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে (Supply) টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই দেশে ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন’ (Essential Commodities Act) কার্যকর করেছে। একইসঙ্গে তেল শোধনাগারগুলিকে (Refineries) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ স্তরে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি করতে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের মোট এলপিজি ব্যবহারের ৮৭ শতাংশই গৃহস্থালি খাতের (Domestic Sector) জন্য বরাদ্দ। তাই সাধারণ গ্রাহকদের জোগান নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে কিছুটা কাটছাঁট করা হতে পারে। কালোবাজারি (Black Marketing) রুখতে সিলিন্ডার বুকিংয়ের সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। এছাড়া, হাসপাতাল (Hospitals) ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জরুরি পরিষেবায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিন সদস্যের একটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (Executive Director) কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়া থেকে তেল কেনা সম্ভব হলেও, গ্যাসের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা ভারতের জন্য এক বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


