মালদা
বয়সের পরিণতিতে সাত পাকে দিলীপ, রাজনীতিতে কী তবে নতুন পালা?
ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজনীতিতে বর্তমান সময়ের কিছু ঘটনার সঙ্গে অতীতের মিল খোঁজার প্রবণতা নতুন নয়। অনেক সময় সেই মিল শুধুই প্রতীকমূলক হলেও তা আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। তেমনই এক পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) দিঘা সফর ঘিরে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা, যার ছায়া গিয়ে পড়েছে প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা সোমেন মিত্রের (Somen Mitra) রাজনৈতিক অধ্যায়ের উপরে।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আমন্ত্রণে দিঘা সফরে গিয়ে জগন্নাথ মন্দির দর্শন করেন বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ। তাঁর সেই সফর ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক। পাশাপাশি গুঞ্জন শুরু হয়েছে— দিলীপ কি তবে বিজেপি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন? এই পরিপ্রেক্ষিতেই রাজনৈতিক মহলে উঠছে সোমেন-শিখা মিত্র পর্বের প্রসঙ্গ।
দিলীপ ঘোষ সদ্য বিয়ে করেছেন রিঙ্কু মজুমদারকে (Rinku Majumdar), যিনি তাঁর দলেরই সহকর্মী। বয়সের সেই প্রান্তে দাঁড়িয়ে সাতপাকে বাঁধা পড়ায়, তুলনা টানা হচ্ছে সোমেন মিত্র বা প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির (Priya Ranjan Dasmunshi) মতো নেতাদের সঙ্গে, যাঁরা অনেক পরে জীবনে গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন। সেই সূত্র ধরেই উঠে এসেছে শিখা মিত্রের (Shikha Mitra) নাম— যাঁর প্রভাবেই কংগ্রেস ছেড়ে দুইবার দলবদল করেছিলেন সোমেন।
আরও পড়ুনঃ নিজের পায়ে দাঁড়াও’—মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা জীবনমন্ত্র সুস্মিতার, স্টার্টআপ আখের রসে
স্মৃতিতে ফিরে এলে দেখা যায়, ২০০৮-৯ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন সোমেন, এবং পরে ২০১৪ সালে আবার ফিরেও আসেন কংগ্রেসে। দুইবারই তাঁদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পেছনে পরোক্ষ ভূমিকা ছিল কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh)। বর্তমানে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ সেই সময় ছিলেন সোমেন-শিখার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন সোমেন মিত্র, এবং ডায়মন্ড হারবার থেকে জয়ী হন। মন্ত্রিত্ব না পাওয়া নিয়ে সে সময় অস্বস্তি তৈরি হলেও কুণাল ঘোষ স্পষ্ট করে বলেন, “সোমেনদা নিজেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।” এরপর ২০১১ সালে শিখা মিত্র তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে চৌরঙ্গী কেন্দ্র থেকে জেতেন। কিন্তু মন্ত্রী না করে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে (Chandrima Bhattacharya)। এখান থেকেই দাম্পত্য জুটি সোমেন-শিখার মধ্যে রাজনৈতিক হতাশা জন্ম নেয়, যার পেছনে কৌশলগতভাবে উসকানি ছিল কুণাল ঘোষের।
বর্তমানে, দিলীপ ঘোষের পরিস্থিতিও অনেকের কাছে যেন সোমেন মিত্রের মতোই প্রতীয়মান হচ্ছে— রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা, দলে প্রাসঙ্গিকতা কমে যাওয়া, এবং চর্চার কেন্দ্রে তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে দিঘা সফরের পরে বিজেপি ও আরএসএসের একটি বড় অংশ তাঁকে কার্যত একঘরে করেছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে দিলীপের ঘনিষ্ঠদের দাবি, এত কিছু সত্ত্বেও তিনি দল ছাড়বেন না।
রাজনীতি মানেই চমক, অঙ্ক, এবং তার সঙ্গে জুড়ে থাকা স্মৃতির প্রতিধ্বনি— দিলীপ ঘোষ অধ্যায়েও কি সেই পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে? জবাব দেবে সময়।
