ভাইরাল খবর
দিল্লির স্বঘোষিত ‘বাবা’ চৈতন্যানন্দের অশ্লীল কাণ্ড: ছাত্রীদের পাঠানো হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা ফাঁস
ডিজিটাল ডেস্কঃ আস্তে আস্তে সামনে আসছে দিল্লির স্বঘোষিত ধর্মগুরু স্বামী চৈতন্যানন্দ সরস্বতী ওরফে স্বামী পার্থসারথীর একের পর এক অশ্লীল কাণ্ড। ইতিমধ্যেই আগ্রার (Agra) একটি হোটেল থেকে রবিবার ভোররাতে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে সে। এবার প্রকাশ্যে এল তার পাঠানো হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) বার্তা। এক ছাত্রীর কাছে চৈতন্যানন্দ লিখেছিল— “দুবাইয়ের এক শেখ যৌন সঙ্গী (Sex Partner) চাইছে। তোমার পরিচিত কেউ আছে? যে তার সঙ্গী হতে রাজি হবে?” ছাত্রী সাফ জানিয়ে দেয়, এরকম কাউকে সে চেনে না। এর উত্তরে ফের প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয় চৈতন্যানন্দ— “কীভাবে সম্ভব? তোমার কোনও সহপাঠী বা জুনিয়র নেই?”
এখানেই শেষ নয়। অন্য এক তরুণীকে সে প্রতিদিন সকালে বার্তা পাঠাত— “বেবি গুড মর্নিং, কোথায় আছো? রাগ করেছ?”। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, একাধিক ছাত্রীকে পাঠানো এই ধরণের আপত্তিকর মেসেজ (Message) পুলিশের হাতে এসেছে।
চৈতন্যানন্দের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠেছে। জানা গিয়েছে, ছাত্রীদের ব্যক্তিগত প্রশ্ন করত— “তাদের কতজন প্রেমিক রয়েছে? সম্পর্কের সময় কন্ডোম (Condom) ব্যবহার হয় কি না?”। প্রায় প্রত্যেককে সে ‘বেবি’ বলে সম্বোধন করত। অভিযোগ আরও গুরুতর— ছাত্রীদের স্নানের সময় জানতে চাইত, এমনকি শৌচালয়ে গোপন ক্যামেরা (Camera) বসাত। মহিলাদের দেহগঠন, পোশাক এবং চুল নিয়ে মন্তব্য করত। হোলির (Holi) সময় সে-ই প্রথমে প্রতিটি ছাত্রীর মুখে রঙ মাখবে— এই নির্দেশও জারি করেছিল। এছাড়া মাঝরাতে হোস্টেলের ছাত্রীদের নিজের ঘরে ডেকে এনে অশালীনভাবে স্পর্শ করত বলেও অভিযোগ রয়েছে।
২০০৯ সালেই প্রথম চৈতন্যানন্দের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও তহবিল তছরুপের মামলা রুজু হয়েছিল। ২০১৬ সালে এক মহিলার শ্লীলতাহানির অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। আর এবার, একে একে ১৭ জন মহিলা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বিতর্ক বাড়তে থাকায় দিল্লির বসন্ত কুঞ্জের (Vasant Kunj) শ্রী শারদা ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্ট (Shraddha Institute of Indian Management) নামক আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত ওই ‘বাবা’র সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছে শ্রী শ্রীঙ্গেরি মঠ (Shringeri Math)। এক বিবৃতিতে মঠের তরফে জানানো হয়, “তিনি অনৈতিক ও বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাই সমস্ত যোগাযোগ ছিন্ন করা হলো।”
গ্রেপ্তারের আগে আগাম জামিনের জন্য আবেদন করলেও আদালত (Court) তা খারিজ করে। অবশেষে রবিবার ভোর সাড়ে তিনটেয় পুলিশ তাকে পাকড়াও করে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তার বিলাসবহুল ভলভো (Volvo) গাড়ি, যেখানে নকল নম্বর প্লেট লাগানো ছিল।


