আত্মহত্যা
ফুলের জন্য মৃত্যু! শান্তিপুরে গৃহবধূ আত্মহত্যা-কাণ্ডে গ্রেপ্তার বাড়ছে, ধৃত এখন ২
ডিজিটাল ডেস্কঃ শান্তিপুরে (Santipur) এক গৃহবধূর আত্মহত্যাকে ঘিরে ক্রমেই গা ছমছমে মোড় নিচ্ছে তদন্ত। ‘ফুল চুরির’ অপবাদে আত্মঘাতী সরস্বতী দে (Saraswati De) কাণ্ডে এবার পুলিশের জালে অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের বউদি। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) রানাঘাট মহকুমা আদালতে তোলা হয় গ্রেপ্তার হওয়া কাজল করাতিকে (Kajal Karati)। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ধৃতের সংখ্যা দাঁড়াল দুই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শান্তিপুর থানার নৃসিংহপুর এলাকায় ঘটনার সূত্রপাত। অভিযোগ, প্রতিবেশী সিভিক ভলান্টিয়ার মিলন করাতির (Milon Karati) বাড়ির গাছ থেকে ফুল তুলেছিলেন সরস্বতী দেবী। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মিলন, তাঁর দাদা অসীম করাতি (Asim Karati) ও বউদি কাজল। সরস্বতীর পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়, এমনকি ফুল চুড়ির অপবাদে কান ধরে অপদস্থও করা হয়। অপমানে ভেঙে পড়ে বাড়ি ফিরে গলায় দড়ি দেন সরস্বতী।
আরও পড়ুনঃ ‘নিজের লোকের কাছেই অপমান’, দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত সিদ্দিকুল্লার, আশ্বাসের ঢাল মুখ্যমন্ত্রীর
ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। মৃতার পরিবার শান্তিপুর থানায় চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশের তৎপরতায় গ্রেপ্তার করা হয় মিলনের দাদা অসীমকে। এবার মিলনের বউদি কাজলকেও গ্রেপ্তার করল পুলিশ। যদিও ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত মিলন এখনও অধরা। তবে তাঁকে ইতিমধ্যেই সিভিক ভলান্টিয়ার পদ থেকে বরখাস্ত করেছে পুলিশ প্রশাসন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৬ ও ৩৪ সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, ফুলের মতো তুচ্ছ একটি বিষয়কে ঘিরে এত বড় পরিণতি! এক গৃহবধূর জীবন এমনই নৃশংসভাবে কেড়ে নেওয়া হল। ঘটনার তদন্তে নেমেছে শান্তিপুর থানার পুলিশ। দ্রুত বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয়রাও।
