রাজনীতি
‘নিজের লোকের কাছেই অপমান’, দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত সিদ্দিকুল্লার, আশ্বাসের ঢাল মুখ্যমন্ত্রীর
ডিজিটাল ডেস্কঃ মালডাঙার মাটিতে একপ্রকার অপমানিত, লাঞ্ছিত রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী (Siddiqullah Chowdhury)। নিজের দলীয় কর্মীদের হাতেই বিক্ষোভ, পথে থামিয়ে কনভয় ঘিরে আক্রমণ, ঝাঁটা হাতে তেড়ে আসা মহিলারা—সব মিলিয়ে এমন নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন মন্ত্রী নিজেই। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার রেশ এতটাই গভীর যে, নিজের পদ থেকেই ইস্তফা দিতে চেয়েছিলেন তিনি।
তবে নাটকীয় মোড় নেয় সোমবার রাতে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরাসরি ফোন করেন তাঁকে। প্রায় পাঁচ মিনিটের কথোপকথনে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, দোষীদের কোনওভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযুক্ত তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সেই আশ্বাসে কিছুটা ভরসা ফিরে পেয়েছেন সিদ্দিকুল্লা। আপাতত পদত্যাগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী সব শুনেছেন। সুবিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। আমি সাতজনের নাম দিয়েছি। পুলিশও জানে কে দোষী। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যে কোনও এলাকায় যদি এই ধরনের অপমানজনক ঘটনা ঘটে, দল কড়া পদক্ষেপ নেবে।”
আরও পড়ুনঃ ছাত্রীকে জড়িয়ে ধরার অভিযোগ অস্থায়ী ক্লার্কের বিরুদ্ধে, উত্তাল ডালখোলা, আগুন লাগল দোকানে
উল্লেখ্য, ৩ জুলাই সকালে একুশে জুলাই উপলক্ষে সভাস্থল ঘুরতে গিয়েছিলেন মন্ত্রী মালডাঙা এলাকায়। সেই সময় তাঁর কনভয় ঘিরে ধরে একদল তৃণমূল কর্মী। ঝাঁটা হাতে চড়াও হন মহিলারা, দেখানো হয় কালো পতাকা, লক্ষ্য করে ছোড়া হয় জল। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, রাস্তায় কনভয় আটকে বিক্ষোভ—একাধিকবার হেনস্থার শিকার হন মন্ত্রী।
ঘটনার নেপথ্যে মন্তেশ্বরের পঞ্চায়েত সভাপতি আহমেদ হোসেন শেখ (Ahmed Hossain Sheikh)-এর ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “দলীয় কর্মীদের হাতে যদি এভাবে অপমানিত হতে হয়, তবে তৃণমূল ছাড়তেই হবে।”
তবে এখন অপেক্ষা, মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে শেষ পর্যন্ত আদৌ সুবিচার পান কি না রাজ্যের এক মন্ত্রী নিজেই।
