ভাইরাল খবর
১২ পাতার ফর্মে সমস্যায় সাধারণ মানুষ! অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন সহজ করার আশ্বাস দিলেন অগ্নিমিত্রা
ডিজিটাল ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তনের (Change of Power) পর পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের বদলে বিজেপি সরকার চালু করেছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana)। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের আর্থিক অনুদান বাড়িয়ে মাসিক ৩০০০ টাকা করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ১২ পাতার একটি দীর্ঘ আবেদনপত্র প্রকাশ হতেই রাজ্যজুড়ে এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
এই দীর্ঘ ফর্মে আবেদনকারী ও তাঁর পরিবারের জমি-জায়গার দলিল, আধার কার্ড, প্যান কার্ড থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কের নথি (Bank Documents)-সহ একগাদা খুঁটিনাটি তথ্য চাওয়া হয়েছে। এমনকি পরিবারের শিশুর সংখ্যা, তাদের সরকারি ভ্যাকসিনেশন (Vaccination) এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ নথির দাবিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হয়েছে। বিরোধী দল তৃণমূলের দাবি, এটি আসলে প্রকৃত উপভোক্তাদের নাম তালিকা থেকে ‘বাদ দেওয়ার ছক’ বা একটি ‘নীরব ছাঁটাই অভিযান’।
তবে এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও আমজনতার ক্ষোভ দূর করতে আসরে নেমেছেন রাজ্যের নারী, শিশু উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাংলার মা-বোনেদের ফর্ম পূরণ করতে অসুবিধা হলে উপভোক্তাদের সুবিধার্থে এই ফর্মের সরলীকরণ (Simplification) অবশ্যই করা হবে এবং এই বিষয়ে তিনি স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলবেন। তবে এর পাশাপাশি তিনি সাফ জানান, এই তথ্য কোনো সাধারণ অডিট নয়, বরং অনুপ্রবেশ ঠেকানোর একটি জরুরি ফিল্টার। রোহিঙ্গা বা অবৈধ বাংলাদেশিদের পকেটে যাতে দেশের করদাতাদের টাকা না যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া (Verification Process)। যারা সিএএ (CAA)-তে আবেদন করেছেন কিংবা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, তারা এই সুবিধা পাবেন। তবে আয়করদাতারা (Income Tax Payers) এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
ফর্মের দৈর্ঘ্য প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এই ফর্মের মাধ্যমেই আসলে রাজ্য সরকার নাগরিকদের পরিবার সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত তথ্যভাণ্ডার বা ডেটা (Data) সংগ্রহ করছে। মানুষের সুবিধার্থে ফর্মটি অনলাইন ও অফলাইন— দুই মাধ্যমেই পূরণ করা যাবে। অফলাইনে এই ফর্ম বিডিও অফিস, পুরসভা বা ওয়ার্ড অফিস থেকে সংগ্রহ করা যাবে। যারা নিজেরা ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের সাহায্যের জন্য সরকারি আধিকারিকরা সরাসরি বাড়ি বাড়ি ঘুরবেন। এমনকি স্থানীয় বিধায়কদেরও এই কাজে দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩রা জুন নবান্ন (Nabanna) থেকে প্রথম দফার অর্থ উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। আমজনতার ভোগান্তি ও ভিড় এড়াতে নবান্নের তরফে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে বিশেষ ক্যাম্প বা সহায়তা শিবির (Help Desk) খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
