রাজনীতি
স্বাক্ষর জালিয়াতি অভিযোগে তৃণমূলে নতুন বিতর্ক! নয়না, বাহারুলের পর এবার চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়িতে CID
ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) ফলাফলে ১৫ বছর পর শাসকদল থেকে বিরোধী আসনের তকমা পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপরই দলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা (Leader of the Opposition) হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্বাচন প্রক্রিয়া ঘিরেই এবার তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা (Constitutional Complexity)।
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে বিধানসভায় যে রেজোলিউশন (Resolution) পত্র জমা দেওয়া হয়েছিল, তাতে একাধিক তৃণমূল বিধায়কের স্বাক্ষর (Signature) নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিধানসভার আধিকারিকরা। এই মর্মে বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীকালে মামলার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় সিআইডি (CID)-র হাতে।
বৃহস্পতিবার থেকেই তদন্তের স্বার্থে সিআইডি-র একটি বিশেষ দল হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞ বা হ্যান্ডরাইটিং এক্সপার্টদের (Handwriting Experts) সঙ্গে নিয়ে একের পর এক তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে হানা দিতে শুরু করে। সিআইডি আধিকারিকরা চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁর প্যান কার্ড পরীক্ষা করেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করেন। গোটা ঘটনাকে ‘শকিং’ (Shocking) বলে বর্ণনা করে নয়নাদেবী দাবি করেন, জায়গা কম থাকায় তিনি স্বাক্ষরের বদলে বড় হাতের অক্ষরে (Block Letters) নিজের নাম লিখেছিলেন এবং ওটি তাঁরই হস্তাক্ষর। অন্যদিকে, ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম এক বিস্ফোরক দাবি (Explosive Claim) করে বসেন। তিনি সাফ জানান, রেজোলিউশনে থাকা সইটি তাঁর নয়। তিনি ৬ মে বাড়ি থেকেই বের হননি, তাই সইটি ‘ভূতে’ করেছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এছাড়াও বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন তদন্তকারীরা।
এই সই বিতর্কের রেশ ধরেই শুক্রবার সকালে বোলপুরের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়িতে পৌঁছয় সিআইডি-র ৬ সদস্যের দল। ফরেনসিক পরীক্ষার (Forensic Test) জন্য তাঁরও একাধিক স্বাক্ষরের নমুনা (Signature Samples) সংগ্রহ করা হয়েছে। চন্দ্রনাথবাবু তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে জানান, এক ব্যক্তির করা মামলার ভিত্তিতে এই ‘নাটক’ করা হচ্ছে। বিজেপিকে তোপ দেগে তিনি বলেন, এভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত না করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই বিধানসভার সেক্রেটারি (Assembly Secretary) হিসেবে বিধায়কদের ডেকে সমর্থন যাচাই করে নিতে পারতেন। সব মিলিয়ে, বিধায়কদের স্বাক্ষর বিতর্কে বর্তমানে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
