ভাইরাল খবর
‘সকালে জমা, বিকেলে খরচ’! বারুইপুর কাণ্ডে পুলিশের এনকাউন্টারে খতম প্রধান অভিযুক্ত
ডিজিটাল ডেস্কঃ বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় (Gangrape and Murder Case) তদন্তে বড় মোড়। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশ সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাস্থলে (Crime Scene) পুনর্নির্মাণ (Recreation) করার জন্য তাঁকে সূর্যপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় পুলিশের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র (Firearm) ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে অভিযোগ। এরপর আত্মরক্ষার্থে (Self Defence) পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
তদন্তে পুলিশের হাতে আসা একটি সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজে নাবালিকার সঙ্গে শেষবার প্রভাসকে হাঁটতে দেখা যায়। সেই সূত্রেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তাঁর জেরার ভিত্তিতেই পুকুর থেকে নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয় বলে দাবি তদন্তকারীদের। যদিও পুলিশ জানায়, জেরার সময় বারবার বয়ান বদলে তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিলেন তিনি।
এদিকে এই মামলায় আরও এক অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকে বসিরহাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ (STF), বারুইপুর এসওজি (SOG) ও জেলা পুলিশ। ফলে এই ঘটনায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়াল চার।
বারুইপুরের ঘটনায় জনরোষের আবহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তদন্তে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন এবং ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতির কথা জানান। তিনি স্পষ্ট করেন, তদন্তে কোনও গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনের আগে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে ধর্ষকদের কোর্টে পাঠাব না, সকালে জমা নেব, বিকেলে খরচ করব।” বারুইপুর কাণ্ডের পর পুলিশের এই এনকাউন্টারকে ঘিরে সেই মন্তব্যও নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, বারুইপুরে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও (Video) ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে পুরো ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
