খুন
পরিবারের বচসার জেরে নৃশংস খুন, কাটা মাথা হাতে ধরা দিল অভিযুক্ত
ডিজিটাল ডেস্কঃ শনিবার সকালে এক লোমহর্ষক দৃশ্য স্তম্ভিত করে দিল বাসন্তীর ভরতগড় এলাকাকে। ধারালো অস্ত্র হাতে এবং অপর হাতে বউদির কাটা মাথা নিয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করল এক যুবক। অভিযুক্ত বিমল মণ্ডল (Bimal Mondal), নিহত সতী মণ্ডল (Sati Mondal)-এর দেওর।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, সকালবেলা স্থানীয় একটি মাঠে দু’জনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হচ্ছিল। আচমকা বিমল চপার দিয়ে সতীকে (বউদি) আঘাত করে। ঘটনায় ধড় থেকে মাথা আলাদা হয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সতী। এরপর চম্পট দেওয়ার বদলে, এক হাতে কাটা মুণ্ডু ও অন্য হাতে চপার নিয়ে শান্তভাবে রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকে অভিযুক্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বিমলকে সম্পূর্ণ অনুভূতিহীন ভাবে হেঁটে যেতে দেখা গিয়েছে, আশপাশের পথচলতি মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। শেষপর্যন্ত বিমল নিজেই গিয়ে আত্মসমর্পণ করে বাসন্তী থানায়। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও কাটা মুণ্ডু বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ লাইভ টেলিকাস্ট সম্প্রচারের মাধ্যমে হাসিনার বিচার শুনানি পরিবেশন করবে বাংলাদেশ সরকার
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, দেওর-বউদির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক বিবাদ চলছিল। যদিও ওই বিবাদের প্রকৃত কারণ এখনও পরিষ্কার নয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে দফায় দফায় জেরা করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে কী কারণে সে এতটা ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নিল।
এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। খুনের কারণ জানতে তদন্ত চলছে।”
মনোবিদদের মতে, সমাজে ধৈর্যের অভাব ক্রমেই বেড়ে চলেছে। রাগের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এমন বর্বর কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলছেন অনেকেই।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশের তরফে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এলাকায়।
