দেশ
পথ দূর্ঘটনায় সন্তানহারা বৃদ্ধের বিনা পারিশ্রমিকে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ রাজধানীতে
নিউজ ডেস্ক , ১৮ জানুয়ারী : পুলিশের ইউনির্ফম পরে হাতে লাঠি নিয়ে ট্র্যাফিক সামলাতে ব্যস্ত এক ব্যক্তি। এমনকী বাঁশি বাজিয়ে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি। দিনের ব্যস্ত সময়ে জনবহুল রাস্তায় এ চিত্র খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু এখানেই ব্যতিক্রম। দিল্লীর সিলামপুর চক পেরলেই নিজের কাজে ব্যস্ত দেখা যাবে ওই বৃদ্ধকে। ৭৫ বছর বয়সী এই বৃদ্ধ মানুষটির নাম গঙ্গারাম। বিগত ৩২ বছর ধরে বিনা বেতনেই তিনি কাজ করে আসছেন ট্রাফিকের।
শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা— কোনো সময়েই বিরাম নেই তাঁর। দিল্লির সাহিদাবাদের একতা বিহারের বাসিন্দা গঙ্গারাম। সাহিদাবাদেই রয়েছে তাঁর ছোট্ট একটি টিভি-রেডিও মেরামতির দোকান। তবে প্রায় তিন দশক আগে যখন ডিজিটাল যুগ সুচনার বহু আগে তার দোকানে ওয়্যারলেস ট্রান্সমিশন সারাতে আসতেন দিল্লির ট্রাফিক সার্জেনরা। তাঁদের সঙ্গে সেইসময়ই গড়ে উঠেছিল তাঁর সুসম্পর্ক। গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ফাঁকা সময়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য তাঁকে অনুরোধ করেন দিল্লির এক সার্জেন। কোনো কিছু না ভেবেই ট্রাফিক ওয়ার্ডেনের ফর্ম ভরে দিয়েছিলেন তিনি। তারপর সকাল ৬টা থেকে বেলা ১০টা পর্যন্ত রাস্তায় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হয়ে যায় তাঁর দৈনিক জীবনের অঙ্গ। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে বছর আষ্টেক আগে একমাত্র সন্তান মুকেশকে হারিয়েছেন তিনি। দোকানে যাওয়ার সময়ই উল্টোদিকে থেকে আসা একটি ট্রাক পিষে দিয়েছিল তাঁকে। সন্তান হারানোর শোকে মারা যান তার স্ত্রী।এরপর থেকেই জীবনের এক অন্য লক্ষ্যমাত্রা বেধে নেন তিনি। কেউ যেন তাদের প্রিয়জনকে পথ দূর্ঘটনায় প্রাণ না হারায় সেজন্য সদাসচেষ্ট তিনি। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত যে কোনো সময়ই তাঁকে দেখা যাবে সিলামপুর চক অঞ্চলে। বাড়িতে বর্তমানে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তাঁর পুত্রবধূ। তবুও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজের জন্য এক পয়সাও পারিশ্রমিক নেন না গঙ্গারামবাবু।জীবনের সায়াহ্নে এসেও তাই পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে দিতে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন তিনি।
