দেশের খবর
ছাত্র রাজনীতি করলে পুলিশের মার সইতেই হবে! খাড়গের অভিযোগের কড়া জবাব নাড্ডার
ডিজিটাল ডেস্কঃ দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলন (Student Protest) এবং সিপিএমের (CPM) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশি (Police Search) ঘিরে বুধবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠল সংসদ। বিরোধীদের অভিযোগ, বিজেপি (BJP) সরকারের আমলে দেশে গণতন্ত্র (Democracy) ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে। পাল্টা জবাবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যসভার নেতা জে পি নাড্ডা (JP Nadda) বলেন, ছাত্র রাজনীতি বা সক্রিয় আন্দোলনে যুক্ত হলে পুলিশি পদক্ষেপের মুখোমুখি হওয়ার মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হয়।
রাজ্যসভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রনেত্রী ঐশী ঘোষকে (Aishe Ghosh) ধরতে একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে পুলিশ কীভাবে প্রবেশ করতে পারে? তিনি এই ঘটনায় কেন্দ্রের কাছে জবাব দাবি করেন। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২১ সালে জেএনইউ (JNU) ক্যাম্পাসে হওয়া একটি বিক্ষোভের মামলায় ঐশী ঘোষ অভিযুক্ত ছিলেন।
এই ঘটনায় সরব হয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge) অভিযোগ করেন, দেশে গণতন্ত্র ও সাধারণ মানুষ নিরাপদ নয়। আন্দোলন দমন করতে সরকার ‘নিষ্ঠুর বলপ্রয়োগ’ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
খাড়গের অভিযোগের জবাবে নাড্ডা বলেন, আইনশৃঙ্খলা (Law and Order) বজায় রাখতে পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। তাঁর বক্তব্য, যারা ছাত্র আন্দোলন বা রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন, তাঁদের গ্রেফতারি বা পুলিশের ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
নিজের ছাত্রজীবনের উদাহরণ দিয়ে নাড্ডা জানান, জরুরি অবস্থার (Emergency Period) সময়ে ছাত্র আন্দোলনে যুক্ত থাকার কারণে তাঁকেও দু’বার ক্লাসরুম থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
এদিকে লোকসভাতেও একই ইস্যুতে বিরোধীরা সরব হন। ‘অ্যান্টি-পেপার লিক বিল’ নিয়ে আলোচনার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবিতে হইচই শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার অধিবেশন মুলতুবির সতর্কবার্তা দেন।
এর আগে সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও দিল্লির যন্তর মন্তরে পুলিশি পদক্ষেপের সমালোচনা করে একে জরুরি অবস্থার থেকেও ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেছিলেন। ফলে ছাত্র আন্দোলন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সংসদে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
