আবহাওয়া
অসমে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫! ক্ষতিগ্রস্তদের ৯ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা
ডিজিটাল ডেস্কঃ অসমে বন্যা পরিস্থিতির (Flood Situation) কিছুটা উন্নতি হলেও দুর্যোগের ভয়াবহতা এখনও কাটেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাতজনের মৃত্যু হওয়ায় চলতি বছরের বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫-এ। অসম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (ASDMA)-র তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে এই সাতটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে শিবসাগর জেলার নজিরা এলাকায়।
বর্তমানে অসমের সাতটি জেলা— শিবসাগর, চরাইদেও, গোলাঘাট, যোরহাট, নগাঁও, শোণিতপুর এবং কামরূপ মেট্রোপলিটন (Kamrup Metropolitan)—বন্যার কবলে রয়েছে। এই জেলাগুলির ২১টি রাজস্ব চক্রের ৬২২টি গ্রাম এখনও জলমগ্ন। যদিও পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ ৩২ হাজার ৬৩৯ জনে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চরাইদেও জেলা, যেখানে প্রায় ১ লক্ষ ৪২ হাজার ৭৫৬ জন বন্যার (Flood) সমস্যায় পড়েছেন। এরপর রয়েছে শিবসাগর জেলায় ৯৭ হাজার ৭৪ জন এবং যোরহাটে ৫৭ হাজার ৩৭১ জন মানুষ।
বর্তমানে ৮১টি ত্রাণ শিবিরে (Relief Camp) ৩২ হাজার ৪৭৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া ৩৪টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র থেকে দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), দমকল এবং স্বেচ্ছাসেবীরা একসঙ্গে কাজ করছেন।
বন্যার জেরে প্রায় ৪৫ হাজার ৩৪১.৯৮ হেক্টর কৃষিজমি (Agricultural Land) জলের তলায় চলে গিয়েছে। বহু বাড়ি, গোয়ালঘর, স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গোলাঘাটের নুমালিগড়ে ধানসিড়ি নদীর জল এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে।
এদিকে বন্যায় মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর ঘোষণা করেছে অসম সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, সরকারি অনুদানের পাশাপাশি মৃতদের পরিবারের হাতে অতিরিক্ত ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। ফলে মোট ক্ষতিপূরণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৯ লক্ষ টাকা।
এছাড়া বন্যায় নিখোঁজ ব্যক্তির দেহ এক মাসের মধ্যে উদ্ধার না হলে সংশ্লিষ্ট পরিবারকেও একই পরিমাণ অর্থ সাহায্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর, চরাইদেও, যোরহাট ও গোলাঘাট জেলার গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে অন্তর্বর্তীকালীন ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।
