রাজনীতি
বিধায়কদের সই জালিয়াতি বিতর্ক! সিআইডি তলবের মাঝেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ অভিষেক
ডিজিটাল ডেস্কঃ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যখন রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও বিধায়কদের বিদ্রোহ চরম সীমায়, ঠিক তখনই সিআইডির (CID) পাঠানো নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের (Kolkata High Court) দ্বারস্থ হলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (General Secretary) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের এজলাসে সিআইডির নোটিস বাতিলের আবেদন জানিয়ে একটি মামলা দায়েরের অনুমতি চান তাঁর আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলার গুরুত্ব বিচার করে আদালত সেই অনুমতি দিয়েছে এবং আগামী শুক্রবার এই মামলার শুনানির (Hearing) সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভায় (Assembly) জমা পড়া একটি চিঠিকে ঘিরে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করে জমা দেওয়া ওই চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষরের সত্যতা নিয়ে মারাত্মক অসঙ্গতি বা বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এই বিষয়ে হেয়ার স্ট্রিট থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (Formal Complaint) দায়েরের পর তদন্তভার হাতে নেয় সিআইডি। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওই চিঠিতে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেকেরও স্বাক্ষর ছিল। এই সই জালিয়াতির (Forgery) মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ১ জুন তাঁকে ভবানী ভবনে (সিআইডি সদর দফতর) সশরীরে হাজির হওয়ার সমন (Summon) পাঠানো হয়েছিল।
তবে শারীরিক অসুস্থতার (Illness) কারণ দেখিয়ে অভিষেক সেই হাজিরা এড়িয়ে যান এবং পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৫ দিনের বাড়তি সময় চান। এরপরই সিআইডির একটি বিশেষ দল কালীঘাটে অভিষেকের বাসভবনে গিয়ে আগামী ৮ জুন হাজিরার জন্য একটি নতুন নোটিস দিয়ে আসে। এই নোটিসের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি, তদন্ত চলাকালীন যাতে সিআইডি কোনও কঠোর পদক্ষেপ (Coercive Action) বা গ্রেফতারি ব্যবস্থা না নিতে পারে, সেই মর্মে আদালতের কাছে আইনি সুরক্ষাকবচ বা রক্ষাকবচ (Protective Shield) চেয়েছেন তৃণমূল নেতা। একদিকে দুই বিক্ষুব্ধ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার বিদ্রোহের জেরে দলের অভ্যন্তরীণ চাপ, অন্যদিকে সিআইডির আইনি তৎপরতা— এই দুই পরিস্থিতির মাঝেই অভিষেকের হাইকোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
