খুন
ভোট শেষ হতেই রক্তাক্ত মধ্যমগ্রাম! শুভেন্দু অধিকারীর P.A চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে খুন
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভোট মিটতেই ফের উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। মধ্যমগ্রামে (Madhyamgram) গাড়ি থামিয়ে গুলি করে খুন করা হল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ঘনিষ্ঠ আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন গাড়ির চালকও। দুষ্কৃতীদের হামলায় গোটা এলাকায় ছড়িয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।
জানা গিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় বিধানসভা (Assembly) থেকে ফেরার পথে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় হামলার মুখে পড়েন চন্দ্রনাথ রথ। অভিযোগ, মোটরবাইকে (Motorbike) করে আসা দুই দুষ্কৃতী প্রথমে তাঁর গাড়ির পথ আটকে দাঁড়ায়। এরপর খুব কাছ থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ (Point Blank Range) থেকেই গুলি চালানো হয়েছিল।
গুলিতে চন্দ্রনাথ রথের বুক, পেট ও মাথায় আঘাত লাগে। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে দ্রুত মধ্যমগ্রামের ভিভা সিটি হাসপাতালে (Viva City Hospital) নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বুকের বাঁদিকে লাগা দুটি গুলি হৃদপিণ্ড ফুঁড়ে বেরিয়ে যায়। একটি গুলি পেটেও লাগে। আহত গাড়িচালককে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে বিজেপির (BJP) সদ্যবিজয়ী বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, বেশ কিছুক্ষণ ধরেই চন্দ্রনাথ রথের গাড়িকে অনুসরণ (Follow) করা হচ্ছিল। এরপর পরিকল্পনা করেই হামলা চালানো হয়। তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, “দোষীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত মৃতদেহ দাহ করা হবে না।”
দীর্ঘদিন ধরেই শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা ভোটে শুভেন্দুর বিপুল জয়ের নেপথ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক ছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, ঘটনার দিন বিকেল পর্যন্ত শুভেন্দুর সঙ্গেই ছিলেন চন্দ্রনাথ।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত (Pre-planned) হতে পারে। যেভাবে গাড়ির নির্দিষ্ট দিক লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে, তাতে দুষ্কৃতীদের মূল নিশানা চন্দ্রনাথ রথই ছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্রের কার্টিজ (Cartridge)। গুলিবিদ্ধ গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলায় ব্যবহৃত বাইকের নম্বর প্লেট শিলিগুড়ির হলেও সেটি ভুয়ো বলে সন্দেহ পুলিশের।
এদিকে এই ঘটনার পর ভিভা সিটি হাসপাতালের সামনে ভিড় করেন অসংখ্য বিজেপি কর্মী-সমর্থক। সেখানে উপস্থিত হন শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, অর্জুন সিং, কৌস্তভ বাগচী-সহ একাধিক বিজেপি নেতা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
উল্লেখ্য, ভোট পরবর্তী হিংসা (Post-poll Violence) ঘিরে বুধবার থেকেই রাজ্যের একাধিক জায়গা থেকে অশান্তির খবর সামনে আসছিল। সেই আবহেই শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ককে গুলি করে খুনের ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল পশ্চিমবঙ্গে।


