ভাইরাল খবর
ভোটার তালিকায় ১৩ লক্ষ ডবল নাম! সিইও অফিসে বিস্ফোরক তথ্য জমা শুভেন্দুর
ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্যে (West Bengal) চলছে এসআইআরের (SIR – Systematic Investigation & Revision) কাজ পুরোদমে। ইতিমধ্যেই বাড়ি-বাড়ি গিয়ে বিএলও (BLO – Booth Level Officer) অভিযানে ৭ কোটিরও বেশি এনুমারেশন ফর্ম (Enumeration Form) বিলি করা হয়েছে। তবে বিতর্ক থামছে না।
শাসক তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছে এবং আদালতে মামলাও করেছে। অন্যদিকে, বিজেপি (BJP) পাল্টা দাবি করেছে—তৃণমূলের ভুয়ো ভোটার (Fake Voter) তালিকা প্রকাশ পাবে এই প্রক্রিয়ায়। সেই প্রমাণ দেখাতেই বুধবার সিইও দফতরে (CEO Office) হাজির হলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা (Leader of Opposition) শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
শুভেন্দু বিশাল নথি জমা দিয়ে দাবি করেছেন—রাজ্যের ভোটার তালিকায় ১৩ লক্ষ ২৫ হাজার ডবল এন্ট্রি (Double Entry) রয়েছে। তিনি কমিশনে (Commission) এই তথ্যের পূর্ণাঙ্গ বিশদ হিসেব জমা দিয়েছেন।
বিজেপির অভিযোগ, ৫,৭০০ বিএলও-র রাজনৈতিক পরিচয়সহ অভিযোগ জমা দেওয়ার পরও কমিশন কোনও স্পষ্ট রিপোর্ট দেয়নি। যদিও কমিশন জানিয়েছে, তারা প্রায় ৭০ শতাংশ রিপোর্ট পেয়েছে, কিন্তু তার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ আছে।
এছাড়া, বিজেপির অভিযোগ অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ৩০০ জন বিএলও বদলি (Transfer) হলেও মূল সমস্যার সমাধান হয়নি। গেরুয়া শিবির (Saffron camp) কমিশনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
দলের আরও দাবি, তারা ৬৫ জন বিএলও-র বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ জানিয়েছিল, কিন্তু কমিশন সেটিকে “যথাযথ নয়” বলে জানায়।
বিজেপির মতে, কিছু ইআরও ও এইআরও (ERO, AERO) আইপ্যাকের (I-PAC) প্রভাবে কাজ করছেন, যাদের সতর্ক করা প্রয়োজন। তাদের আরও অভিযোগ, বহু জায়গায় বিজেপির বিএলএ-২ (BLA-2) কর্মীদের মারধর করা হয়েছে এবং পুলিশের আচরণ “তৃণমূল ক্যাডারের মতো”।
বিজেপি কমিশনের কাছে বিএলও-বিএলএ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট (Compliance Report) প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।
বিজেপি আরও জানিয়েছে, মৃত ভোটারের (Deceased Voter) সংখ্যা নন-আধার (Non-Aadhaar) ক্ষেত্রে ১৩ লক্ষ এবং আধার সংযুক্ত (Aadhaar-linked) ক্ষেত্রে ৩৩ লক্ষ। সেই তথ্যও কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।
ভুয়ো ভোটারদের উদ্দেশে শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, “যারা জল মিশিয়ে ভোটার তালিকায় নাম রাখতে চাইছেন, তাদের কপালে কিন্তু দুর্ভোগ আছে।”
তিনি আরও জানান, কমিশনের বর্তমান পদক্ষেপে তারা সন্তুষ্ট নন এবং প্রশ্ন তোলেন—স্বচ্ছ ভোটার তালিকা (Clean Voter List) তৈরির ক্ষেত্রে কমিশন আদৌ সফল হবে তো?
