ভাইরাল খবর
BLO পদে প্যারা টিচার! নিয়োগে বেনিয়মের বিস্ফোরক অভিযোগ
ডিজিটাল ডেস্কঃ SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। তার আগেই উঠে এল ভয়ঙ্কর অভিযোগ—BLO (Booth Level Officer) পদে নিয়োগে বেনিয়ম। বিরোধীদের দাবি, সরকারি তালিকায় পার্শ্বশিক্ষকদের (Para Teachers) সহকারী শিক্ষক (Assistant Teacher) দেখিয়ে বিএলও (BLO) হিসেবে নিযুক্ত করা হচ্ছে। তাঁরা নাকি ঘরে বসেই SIR-এর কাজ করছেন।
পুরুলিয়ার বলরামপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পুরুলিয়া ১ নম্বর ব্লকে এমনই এক তালিকায় SL NO 13-তে গাঁড়াফুসরো প্রাইমারি স্কুল-১-এ যিনি সহকারী শিক্ষক হিসেবে তালিকাভুক্ত, তিনি আসলে একজন পার্শ্বশিক্ষক—কলাবতী মাহাতো। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, “আমি প্যারা টিচার। প্রথমে একটু সমস্যা হচ্ছিল, এখন আর হচ্ছে না। আমি প্রায় ২০-২৫ জন মৃত ভোটার (Deceased Voter) পেয়েছি।”
একই বিধানসভা কেন্দ্রের SL NO. 18-তে কানালি প্রাইমারি স্কুলের সহকারী শিক্ষক হিসেবেও তালিকাভুক্ত আরেকজন ব্যক্তি পার্শ্বশিক্ষক বলেই জানা গিয়েছে। অথচ সরকারি তালিকায় তাঁদের সরকারি সহকারী শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এটি এক প্রকার সরকারি জালিয়াতি (Fraud)।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কোনও পার্শ্বশিক্ষককে BLO পদে নিযুক্ত করা যায় না। এই বিষয়ে জেলা বিজেপি (BJP) ইতিমধ্যেই জেলাশাসকের (District Magistrate) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে।
বিরোধী দলগুলোর দাবি, জেলার ৯টি বিধানসভা কেন্দ্রের সরকারি তালিকায় বহু প্যারা টিচার ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর (Anganwadi Workers) নাম রয়েছে, যেখানে সরকারি কর্মীরা (Government Employees) থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নিয়োগ করা হয়নি। পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন, “এই সরকারের আর ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বেআইনি নিয়োগ হচ্ছে। এরা তো ভোটে তৃণমূলের (TMC) হয়ে কাজ করবেন।”
কংগ্রেসের (Congress) জেলা সভাপতি বলেন, “যদি এমন হয়, তাহলে এটা বড় ধরনের জালিয়াতি। আমরা তালিকা চেয়ে পাঠাচ্ছি এবং আইনগত ব্যবস্থা নেব।” সিপিএম (CPIM) নেতা কৃষ্ণপদ বিশ্বাসের কথায়, “পার্শ্বশিক্ষকরা চুক্তিভিত্তিক (Contractual)। তাঁদের দায়বদ্ধতা নেই। এটা একেবারেই অনৈতিক।”
তবে শাসক দলের (Ruling Party) পক্ষ থেকেও এসেছে কিছুটা ভিন্ন সুর। তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি সুশেন মাঝি বলেন, “শিক্ষকরা সাধারণত এই দায়িত্ব পান না। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে, ERO বা AERO তদন্ত করবে।”
পুরুলিয়া ১ নম্বর ব্লকের বিডিও মনোজ মাইতি অবশ্য দাবি করেছেন, “BLO নিয়োগ নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) গাইডলাইন অনুযায়ীই হয়েছে। কোনও বেনিয়ম (Irregularity) হয়নি।”
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—BLO পদে পার্শ্বশিক্ষকদের নিয়োগ কি শুধুই ভুল, না কি এর পেছনে আছে সুপরিকল্পিত জালিয়াতি?
