ভাইরাল খবর
বছরের পর বছর ছাত্র নেই, তবুও চলেছে বেতন তোলা— বিস্ময়ে শিক্ষা দফতর
ডিজিটাল ডেস্কঃ পড়ুয়া নেই (No Students), অথচ শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিয়মিত মাসমাইনে তুলছেন—এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগে সরব হয়েছে শিক্ষা দফতর। সূত্রের খবর, পূর্ব মেদিনীপুর (Purba Medinipur) জেলায় একাধিক জুনিয়র হাইস্কুলে দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রশূন্য অবস্থা। অথচ সংশ্লিষ্ট স্কুলে রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা, যাঁরা ক্লাস না নিয়েই ঘরে বসে বেতন পাচ্ছেন।
করোনার পর থেকেই জেলার পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়। গত পাঁচ বছরে প্রায় ৫০টি স্কুল একেবারেই পড়ুয়াশূন্য হয়ে পড়ে। এর মধ্যে ৩৫টি স্কুলের শিক্ষকদের অন্যত্র বদলি করা হলেও এখনও প্রায় ১৫টি প্রতিষ্ঠানে রয়েছেন ৩০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা। শহিদ মাতঙ্গিনী (Shahid Matangini) ব্লকের শিউড়ি জুনিয়র হাইস্কুল তার এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ২০২২ সাল থেকে এখানে একজনও পড়ুয়া নেই। অথচ রয়েছেন দু’জন শিক্ষক। টিচার ইন-চার্জ (Teacher-in-Charge) উত্তম বিশ্বাস জানিয়েছেন, “তিন বছর ধরে ছাত্র নেই। বদলির জন্য বহুবার আবেদন করেছি, কিন্তু কোনও পদক্ষেপ হয়নি।”
একই পরিস্থিতি ময়না (Moyna) ব্লকের ব্রজবল্লভপুর জুনিয়র হাইস্কুলেও। ২০২১ সাল থেকে ছাত্র নেই। তবুও রয়েছেন দু’জন শিক্ষক। যদিও অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক মৌখিকভাবে অন্যত্র ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, কোনও লিখিত আদেশ না থাকায় সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকেরই পশড়া পিতুলসাহা জুনিয়র হাইস্কুলে খাতায় নাম রয়েছে তিনজন ছাত্রের, কিন্তু স্কুলে আসে না কেউ। অথচ রয়েছেন দুই শিক্ষক-শিক্ষিকা।
শিক্ষা দফতরের এক কর্তা স্পষ্ট জানান, “এভাবে সরকারি অর্থ অপচয় চলতে পারে না। দ্রুত বদলি করতে হবে।” এই পরিস্থিতিতে জেলার ডিআই (মাধ্যমিক) পলাশ রায় (Palash Roy) ভর্ৎসনার মুখে পড়েছেন। তিনি অবশ্য দাবি করেন, “নির্দিষ্ট তথ্য আগে হাতে ছিল না। বিকাশ ভবন জরুরি ভিত্তিতে রিপোর্ট চেয়েছিল। আমরা সব সার্কেল থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পাঠিয়েছি।”


