আত্মহত্যা
প্রেম, প্রতিশোধ না নিছক দুর্ঘটনা? রনিতা-রোহিতের মৃত্যুতে উঠছে প্রশ্ন
ডিজিটাল ডেস্কঃ আনন্দপুরে স্কুটার চালানো শিখতে বেরিয়ে গিয়ে রহস্যজনক পরিণতি। নিখোঁজ হয়ে যাওয়া রনিতা বৈদ্য (Ronita Baidya) ও রোহিত আগরওয়াল (Rohit Agarwal)-এর জোড়া দেহ উদ্ধার ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতেই স্কুটার চালানো শিখতে বন্ধুর সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ২৩ বছরের রনিতা। তাঁর সঙ্গী ছিলেন বন্ধু রোহিত। রাত গভীর হলেও বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে তরুণীর পরিবার। ফোন করেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। পরের দিন সকালে খালের ধার থেকে উদ্ধার হয় স্কুটার ও একটি মোবাইল ফোন।
পরিবারের অভিযোগ ছিল, রোহিত নাকি বচসার পর রনিতাকে মারধর করে খালে ঠেলে দেয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রথমে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এরপরই খাল থেকে উদ্ধার হয় রোহিতের দেহ। তবে রহস্য আরও ঘনীভূত হয় যখন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একই খাল থেকে উদ্ধার হয় রনিতার দেহও।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, সোমবার রাতেই দুজনের মধ্যে ঝগড়া চলছিল বলে শোনা যায়। তাঁদের চিৎকারও শুনেছিলেন কেউ কেউ। তবে সেখানে গিয়ে কাউকে দেখা যায়নি। এরপর থেকে শুরু হয় নিখোঁজের কাহিনি।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, স্কুটার চালানোর সময় হয়তো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দু’জনেই খালে পড়ে গিয়েছিলেন। যদিও, দুর্ঘটনা না কি আত্মহত্যা, নাকি খুন করে আত্মহত্যার ছক—তা এখনও স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশ দাবি করছেন, রনিতা খালে পড়ে গেলে তাঁকে বাঁচাতে রোহিতও ঝাঁপ দেন। কিন্তু খালের প্রবল স্রোতে দু’জনেই ভেসে যান। সামান্য বচসা থেকে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না দুই পরিবারই।
বর্তমানে জোড়া মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। গোটা ঘটনার পিছনে দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত অপরাধ—তা খতিয়ে দেখছে আনন্দপুর থানার পুলিশ।


